× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখী চাষে আশার আলো

ফারুক আহমাদ আরিফ, খুলনা থেকে ফিরে

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৬ পিএম

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৬ পিএম

খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও যশোর জেলার লবণাক্ত এবং দীর্ঘদিনের পতিত জমি এখন সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের হাতছানি দিচ্ছে।  গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও যশোর জেলার লবণাক্ত এবং দীর্ঘদিনের পতিত জমি এখন সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের হাতছানি দিচ্ছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও যশোর জেলার লবণাক্ত এবং দীর্ঘদিনের পতিত জমি এখন সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের হাতছানি দিচ্ছে। আমন ধান কাটার পর পতিত পড়ে থাকা এসব জমিতে কৃষকরা বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের চাষ করে আর্থিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যার ফলে ফলনও হয়েছে বাম্পার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় এসব এলাকায় সূর্যমুখী চাষের পরিধি ও গতি ক্রমেই বাড়ছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এসব লবণাক্ত জমি সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পতিত পড়ে থাকে। অথচ এই সময়টিতে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা ব্যয় হয়, আর এর বিপরীতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভের সম্ভাবনা থাকে। চলতি বছর খুলনা অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সূর্যমুখী চাষের বিস্তার ঘটলে দেশে ভোজ্য তেলের আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।

সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়নের আলকা গ্রামে ছয়জন কৃষক দুই একর জমিতে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের চাষ করেছেন। তাদের একজন রেজাউল করিম বলেন, এবারই প্রথম সূর্যমুখীর আবাদ করেছি। ফলন ভালো হলে ধান চাষের তুলনায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছি।

অন্যদিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারাম ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের কৃষক ওয়াহিদুর রহমানও দুই একর জমিতে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের চাষ করেছেন। তার ক্ষেতে প্রায় প্রতিটি সূর্যমুখী ফুলের ওজন পৌনে এক কেজি থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো বারি-৩ জাতের সূর্যমুখী চাষের জন্য বীজ ও সারসহ সরকারি প্রণোদনা পেয়েছি। এসব সহায়তা পেয়ে সূর্যমুখী চাষে আমরা বেশ আশাবাদী।

সূর্যমুখী চাষে তেলের আমদানি কমবে

পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার (খুলনা অঞ্চল) মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, আমন মৌসুমের পর পতিত ও লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশে ভোজ্য তেলের আমদানির হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। বর্তমানে দেশের মোট ভোজ্য তেলের চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ সরিষা, সূর্যমুখী, তিলসহ অন্যান্য তেলবীজ ফসল থেকে উৎপাদিত হয়; বাকি ৮৫ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তাই পতিত ও লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখী চাষ বৃদ্ধি পেলে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

চাষাবাদের পদ্ধতি

সূর্যমুখী চাষের প্রধান সময় নভেম্বর মাস। তবে ডিসেম্বর মাসেও এর বপন করা যায়। নভেম্বরে রোপণ করলে সাধারণত ফুলের আকার বড় হয় এবং দানার পরিমাণও বেশি পাওয়া যায়। এ সময় সেচের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হয়। অনুকূল পরিবেশে একটি সূর্যমুখী ফুল থেকে প্রায় এক কেজি পর্যন্ত বীজ বা দানা পাওয়া সম্ভব।

পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার (খুলনা অঞ্চল) মোছাদ্দেক হোসেন জানান, এক কেজি সূর্যমুখীর বীজ থেকে গড়ে কমপক্ষে ৪০০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। যদি প্রতি কেজি বীজের দাম ১০০ টাকা ধরা হয়, তবে এক মণ বীজের মূল্য দাঁড়ায় ৪ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে গড়ে সাড়ে ৭ মণ (প্রায় ৩০০ কেজি) বীজ উৎপাদন হলে সেখান থেকে ৪০০ গ্রাম করে হিসাব করলে ১৩০ লিটার তেল পাওয়া যেতে পারে। এর বাজারমূল্য সাড়ে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তেল উৎপাদনের পর অবশিষ্ট খৈল পশুখাদ্য হিসেবে এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যার আর্থিক মূল্যও কম নয়।

জমির উর্বরতা বৃদ্ধি 

ধানের শিকড় সাধারণত মাটির ৬-৮ ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করে। কিন্তু সূর্যমুখীর শিকড় প্রায় ১৫ ইঞ্চি বা তারও বেশি গভীরে পৌঁছাতে পারে। ফলে মাটির গভীর স্তর থেকে গাছ সহজেই পুষ্টি ও আর্দ্রতা সংগ্রহ করতে পারে এবং সেচ কম পেলেও টিকে থাকতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া সূর্যমুখী গাছের ঝরে পড়া পাতা মাটিতে পচে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। এর ফলে জমির জৈব উপাদান বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তী ফসল চাষে তুলনামূলক কম সার ব্যবহার করলেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হয়।

দ্বিগুণ লবণ সহ্য করতে পারে সূর্যমুখী

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খুলনা অঞ্চল নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটসহ চারটি জেলা নিয়ে গঠিত। এখানে যে জমিকে লবণাক্ত বলা হয়, তার মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ ৮ ডিএস পারমিটার থাকে। এই অঞ্চলের প্রায় ৫৭ শতাংশ জমি লবণাক্ত। এ অঞ্চলে সাধারণত প্রথমে আমন ধান চাষ হয়, পরে জমি পতিত থাকে এবং বোরো মৌসুমে আবার চাষ করা হয়। খরিফ-১ মৌসুমে আড়াই লাখ হেক্টর জমি পতিত থাকে। এ সময়ে যেসব জমিতে পানি কম লাগে এবং লবণ সহনশীল ফসল চাষ করা সম্ভব, সেগুলোতে সূর্যমুখীর চাষে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূর্যমুখী এমন একটি ফসল যা ১৫ ডিএস পারমিটার লবণাক্ততা বা দ্বিগুণ লবণও সহ্য করতে পারে।

সরকারি প্রণোদনা সম্পর্কে তিনি জানান, এক বিঘা জমির জন্য সরকার এক কেজি বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি, টিএসপি ও পটাশসহ অন্যান্য উপকরণ এবং ৩ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা প্রদান করে। একই জমিতে সূর্যমুখী চাষ করলে ন্যূনতম ২৬ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।

পার্টনার প্রকল্পের কর্মসূচি সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বারি সূর্যমুখী-৩-এর বীজ কৃষক নিজেরাই সংরক্ষণ করতে পারেন। এটি কৃষকের জন্য খুবই লাভজনক। প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সূর্যমুখী চাষে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা