বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫৭ পিএম
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্ধার কাজ চলছে। ছবি: ফেসবুক থেকে
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ হোসেন মাসুম বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে রেললাইন সংস্কার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে”।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হতে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই দুর্ঘটনার কারণে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। জয়পুরহাট স্টেশনে আটকা পড়ে আছে রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। এছাড়া খুলনা থেকে সৈয়দপুরগামী রুপসা এক্সপ্রেস সান্তাহার স্টেশনেই অবস্থান করছে। সান্তাহার হয়ে আপাতত কোনো ট্রেন চলাচল করতে পারছে না।
সান্তাহার স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনাস্থলে গত ১৫–২০ দিন ধরে রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছিল। সেখানে আগেই সতর্কতা হিসেবে লাল পতাকা টানানো ছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনটির ধীরগতিতে অতিক্রম করার কথা ছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, চালক নির্ধারিত গতি না মেনে দ্রুতগতিতে ট্রেন চালিয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইঞ্জিনটি পার হয়ে গেলেও পরপর বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ট্রেনের ছাদে থাকা কিছু যাত্রী লাফিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “লাইনের কাজ চলছিল এবং সামনে লাল পতাকা দেওয়া ছিল। কিন্তু চালক দ্রুতগতিতে আসায় ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়”।