অনিয়ম–দুর্নীতি
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ ১০:২১ এএম
আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬ ১০:২৮ এএম
খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমালোচিত খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার।
খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে রবিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে খাদ্য অধিদপ্তর, ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে তাকে খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদায়ন ও দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব স্বাক্ষরিত আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে খুলনা অঞ্চলের খাদ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন।
তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ ঘিরে খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ তাকে নিয়ে রবিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার পরই দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামুনুর রশিদের ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সংযুক্তিতে রাখা হয়েছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
খাদ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগে খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ পদে দায়িত্ব পালনের সময় প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
এদিকে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। খুলনা অঞ্চলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগ বা বিতর্কের প্রেক্ষিতে কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সংযুক্তিতে পাঠানো সাধারণত তদন্ত বা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হয়ে থাকে।
মামুনুর রশিদের ক্ষেত্রেও পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।