হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ২০:২১ পিএম
ঝড়ে মাটিতে গুঁড়িয়ে গেছে বসত ঘর। ভিটার উপরে দাড়িয়ে চিন্তায় মগ্ন এক ভুক্তভুগী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ঈদের দিন পাঁচেক আগের হঠাৎ ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ভুট্টাখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বহু কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবার। সামনে ঈদ থাকায় নতুন করে মাথা গোঁজার চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার রাতের ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত অর্ধশত টিনশেড ঘর।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ে ঘরের টিন উড়ে গিয়ে অনেক বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও ঘরের নিচে চাপা পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাছপালা, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেতও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার ধারা ইউনিয়ন ও কৈচাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কৈচাপুর ইউনিয়নের গুনিয়ারিকান্দা গ্রামে দুটি মসজিদসহ অন্তত ৩০–৩৫টি টিনশেড ঘর এক ঝাপটা ঝড়ে মাটিতে মিশে গেছে।
ধারা ইউনিয়নের কুতিকুড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর উপড়ে পড়া গাছ পড়ে আছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা গাছ সরিয়ে লাইন সচল করার কাজ করছেন। কাছেই একটি টিনশেড চাউলকলের চালা উড়ে গিয়ে অন্য স্থানে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হাতেম আলী বলেন, “হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের টিন উড়ে যায়। ফ্রিজসহ ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের হাঁসের বাচ্চাগুলোও চাপা পড়ে মারা গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি”।
একই গ্রামের দিনমজুর আবুল কাশেম জানান, ঝড়ে তার ঘর ভেঙে পড়ায় পরিবার নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন। রাতে খাবার না পেয়ে শুধু পানি খেয়েই রোজা রাখতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঝড়ে এলাকার অনেকের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছিলেন, এখন তারা চরম বিপাকে পড়েছেন”।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩–এর হালুয়াঘাট জোনালের ডিজিএম মাহমুদুল হাসান মুন্না বলেন, “৩৩ কেভি মূল লাইনের তিনটি স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চলছে”।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত বলেন, “ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।