লবণের পানি-মাটিতে পিচ্ছিল
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৯ পিএম
লবণের পানি ও কুয়াশার প্রভাবে রাস্তায় পড়া মাটি কর্দমাক্ত হয়ে পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টেকনাফ উপজেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকা শাহ পরীর দ্বীপে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন সড়কটি এখন দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। লবণবাহী ট্রাক থেকে পানি পড়া এবং অবৈধভাবে মাটি-বালি পরিবহনের কারণে পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে সড়কটি। ফলে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন দ্বীপে বসবাসকারী অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ও পর্যটকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের আশপাশের লবণের মাঠ, সরকারি খাস জমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে মাটি ও বালি তুলে বিক্রি করছে। এসব মাটি ডাম্পার ট্রাকে করে পরিবহনের সময় কাঁচা মাটি সড়কে পড়ে একটি স্তর তৈরি করছে। এর ওপর লবণের পানি ও কুয়াশার প্রভাবে রাস্তা আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে, যা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের ভাষ্য, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাটি ও বালি পরিবহন করা হচ্ছে। এক দশক পর নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন সড়ক দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করলেও বর্তমানে নতুন করে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লবণবাহী গাড়ি থেকে নিঃসৃত পানির কারণে সড়কটি আরও বেশি পিচ্ছিল হয়ে উঠছে।
লবণ পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাকে জিওটেক্স বা মোটা ত্রিপল ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকবাহী গাড়ি টেকনাফে যাতায়াত করছে। সড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকায় অনেক চালকই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
এ অবস্থায় লবণবাহী ট্রাক থেকে পানি নিঃসরণ বন্ধ করা এবং মাটি পরিবহনের সময় যাতে কাঁচা মাটি সড়কে না পড়ে সে বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।