মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:০১ পিএম
আমাদী ইউনিয়নের পাটনিখালী বিল সরেজমিনে গিয়ে বৃহস্পতিবার দেখা যায়, কোনো জমিতে তরমুজের চারা মাটি ফুড়ে হচ্ছে, আবার কোনো জমিতে চারা বাড়তে শুরু করেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলায় লাভের আশায় দিন গুনছেন তরমুজ চাষীরা। মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে তরমুজের চারা, সঙ্গে পানি, সার ও চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
আমাদী ইউনিয়নের পাটনিখালী বিল সরেজমিনে গিয়ে বৃহস্পতিবার দেখা যায়, কোনো জমিতে তরমুজের চারা মাটি ফুড়ে হচ্ছে, আবার কোনো জমিতে চারা বাড়তে শুরু করেছে।
রমজান আলী ও আবিয়ার রহমানসহ স্থানীয় চাষীরা জানান, আবহাওয়া এ বছর তরমুজ চাষের জন্য বিশেষভাবে অনুকূলে রয়েছে। গত বছর ভালো লাভ হওয়ায় এবার অধিক সংখ্যক কৃষক চাষে নামেছেন।
আবিয়ার বলেন, তিনি ৩০ বিঘা জমিতে তরমুজের বীজ রোপণ করেছেন।
তুলনামূলক লাভ বেশি তরমুজে
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান চাষের তুলনায় তরমুজ চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি। ধান ঘরে তুলতে প্রায় পাঁচ মাস লাগে এবং প্রতি বিঘা সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকার লাভ হয়।
তবে বীজ রোপণ থেকে পাকা তরমুজ সংগ্রহ পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ আড়াই মাস এবং বিঘা প্রতি খরচ ২০–২৫ হাজার টাকা হলেও বিক্রি থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার পর্যন্ত আয় সম্ভব বলেও তারা জানান।
পড়ে থাকা বিলে চাষ
মহারাজপুর এলাকার পতিত জমিতে এবার প্রথমবারের মতো ১২০ একর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে।
মোশারফ হোসেন বলেন, “আমনের পর এই বিল পড়ে থাকত। তরমুজ লাভজনক হওয়ায় প্রথমবারের মতো তরমুজ চাষের চেষ্টা করছি আমরা। এই বিলে যারা তরমুজ চাষ করছেন, তাদের অধিকাংশ নতুন কৃষক।”
কয়রা উপজেলা কৃষি দপ্তর জানায়, ২০২৫ সালে তরমুজ আবাদের জমির পরিমাণ ছিল চার হাজার ২০০ হেক্টর। তবে অতীতের রেকর্ড ভেঙে চলতি বছর সবচেয়ে বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন কৃষকেরা।
২০২০ সালে মাত্র ৬৫ হেক্টর জমিতে শুরু হওয়া চাষ পরবর্তী বছরগুলোতে বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরে সর্বোচ্চ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গুরুদাশ মন্ডল বলেন, আবহাওয়া ও সেচের সুবিধার কারণে এবার ফলন বিগত বছরের চেয়ে ভালো হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা এখন সবুজ চারা দেখতে ও পরিচর্যায় ব্যস্ত, তবে আশাবাদী যে দ্রুত ফসল ঘরে তোলায় লাভবান হবেন।