বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৪ পিএম
বান্দরবানের থানচি উপজেলার প্রথম বেসরকারিভাবে তেরি তমাতুঙ্গী রিসোর্টের কয়েকটি কটেজ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিতে বান্দরবানে আগাম হোটেল ও রিসোর্টে বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ৯০-১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে বুধবার সকালে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত পাহাড়ের রাজ্যে, অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন, শীত মৌসুম ও ঈদের ছুটিতে তা বাড়ে কয়েকগুণ। গত কয়েক বছর জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটক সমাগম কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে কোনো প্রকার বিধিনিষেধ না থাকায় জেলায় পর্যটকের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্রমণে এসে আবাসন নিশ্চিত করতে আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ বান্দরবান সদরের প্রায় সব হোটেলের ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং করেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
২১ ও ২২ মার্চের জন্যও ৪০-৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া অবশিষ্ট এই কয়দিনে ঈদ পরবর্তী ২১ থেকে ২৪ মার্চ শতভাগ কক্ষ বুকড হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
হোটেল গার্ডেন সিটি ম্যানেজার মো. জহীরুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী ২১-২২ মার্চ ৫০ শতাংশ ও ২৩,২৪ মার্চ দুই দিনের ইতিমধ্যে শতভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
তিন তারকা মানের হোটেল হিল ভিউয়ের ম্যানেজার তামজিদুল হায়দার বলেন, তাদের হোটেলে আগামী ২১-২২ মার্চ ৬০ শতাংশ এবং ২৩-২৪ মার্চের জন্য ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালীর ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার মো.মিজান উদ্দিন বলেন, তাদের হোটেলে ২১-২২ মার্চ বুকিয়ের সংখ্যা কম থাকলেও ২৩ ও ২৪ মার্চের জন্য ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
হোটেল স্কাই ব্লু এর ম্যানেজার আব্দুলাহ আল মামুন জানান, তাদের হোটেলেও ২১ ও ২২ মার্চ আগাম বুকিং কিছুটা কম হলেও ২৩-২৪ মার্চের জন্য ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
লামা রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রফিক বলেন, তাদের কাছে ৫২টি রিসোর্টের মধ্যে ভালো মানের যেগুলো রয়েছে, ঈদুল ফিতরের ছুটি উপলক্ষে সেসব রিসোর্টগুলোর অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশী পর্যটকেরা।
থানচি উপজেলার বেসরকারি পর্যায়ে প্রথম রিসোর্ট, তমা তুঙ্গী রিসোর্টের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক চহ্লামং মারমা জানান, তাদের রিসোর্ট হচ্ছে থানচি উপজেলার সর্বপ্রথম বেসরকারি পর্যায়ে রিসোর্ট। ঈদকে সামনে রেখে পর্যটক বরনে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
আপাতত তমা তুঙ্গি রিসোর্টে ৬টি কটেজ করা হয়েছে, একসাথে ৩০-৩২ জন পর্যটকের ধারণ ক্ষমতা আছে। আগামী ১৯ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইতিমধ্য ৯০ শতাংশ কটেজ বুকিং দিয়ে রেখেছেন থানচি ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। যেখান থেকে রাতের নিস্তব্দতায় জোৎস্নার আলো, ভোরে সূর্যোদয় ও বিকেলের মনোরম সূর্যাস্তের সাথে দূরে তহজিংডং, কেওক্রাডং, ডিমপাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স আ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির কারণে পর্যটকদের ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এরইমধ্যে ২৩-২৪ মার্চ জেলার অধিকাংশ কটেজ, রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেলগুলোতে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বাকি দিনগুলোতে অন্যগুলোও শতভাগ বুকিং পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান রিজিয়ন এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ আলী জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি থাকবে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে আগত পর্যটকরা নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।