বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬ ২০:২৬ পিএম
মোংলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে মোংলার বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তাঁর পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্বজন ও কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
জানাজায় ইমামতি করেন মোংলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। পরে মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি ৯ জনকে দাফন করা হয়।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত কনে পক্ষের চারজনের জানাজা কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈমের জানাজা রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানাজার আগে পরিবারের নিহত সদস্যদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আশরাফুল আলম জনি, যিনি এ দুর্ঘটনায় বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও ভাগ্নেসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়েছেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান—সবাইকে হারিয়েছি। আমার বাবার বা ভাইদের কারও যদি কারও কাছে কোনো দেনা-পাওনা থাকে, জানাবেন। আমরা তা পরিশোধ করব। সবাই তাদের ক্ষমা করে দেবেন”।
জানাজার আগে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁরসহ নিহত সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি”।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, “যে বাড়িতে আজ আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই”।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হন। বর-কনেসহ নিহতদের মরদেহ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী ও তাঁর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া নিহত হয়েছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।
মাইক্রোবাস চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার আগে নিজ গ্রামে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বর ছাব্বিরের মোংলা শহরে একটি মোবাইল ফোনের দোকান ছিল। কনে মিতু কয়রা উপজেলার নকশা আলিম মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।