× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুই মাইল হেঁটে এক কলস, কয়রায় সুপেয় পানির হাহাকার

মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ ২১:৫২ পিএম

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬ ২২:২৮ পিএম

এক কলস পানির জন্য হাঁটতে হয় দুই মাইল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

এক কলস পানির জন্য হাঁটতে হয় দুই মাইল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় তীব্র সুপেয় পানির সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে কার্যকর কোনো মিঠা পানির ব্যবস্থা নেই। অন্য দুই ইউনিয়নেও পানির সংকট প্রকট। ফলে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, কয়রা উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৪ জন মানুষের বসবাস। এখানে চারটি কলেজ, আটটি উচ্চবিদ্যালয়, দুটি কামিল মাদ্রাসা, চারটি আলিম মাদ্রাসা ও ২১টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। কিন্তু এত জনসংখ্যার বিপরীতে সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলায় কিছু স্থানে ডিপ টিউবওয়েল থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় খাওয়ার পানির প্রধান উৎস পুকুর। বিশেষ করে আমাদী, বাগালী ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে পানির সংকট সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় অধিকাংশ নলকূপ অকার্যকর। সদর ও মহারাজপুর ইউনিয়নের কিছু অংশেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন।

আমাদী ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামে দেখা যায়, একটি মাত্র মিঠা পানির টিউবওয়েলকে ঘিরে ছয় গ্রামের শত শত পরিবার নির্ভরশীল। বামনডাঙ্গা, দশবাড়িয়া, খেওনা, খিরোল, বালিয়াডাঙ্গা ও পাটুরিয়া গ্রামের নারী-পুরুষ প্রতিদিন বিকেল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় মিঠা পানির কোনো পুকুর বা টিউবওয়েল নেই। শুধু একটি টিউবওয়েল আছে, সেটাতেও খুব ধীরে পানি ওঠে। একটি কলস ভরতে পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় লাগে। গরমের সময় পানি আরও কম ওঠে। সরকারি উদ্যোগে পানির ব্যবস্থা হলে আমরা একটু স্বস্তি পেতাম”।

আরেক বাসিন্দা আরিফুজ্জামান বলেন, “আমাদের এলাকার টিউবওয়েলের সামনে দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষ লাইনে বসে থাকে। অনেক সময় পানি না পেয়েই ফিরে যেতে হয়। পাশেই একটি সরকারি পুকুর আছে, সেটি সঠিকভাবে খনন করে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা করা হলে পানির সংকট অনেকটাই কমতে পারে”।

আমাদী ইউনিয়নের বাসিন্দা সীমা রানি বলেন, “মিঠা পানি পাওয়া এখানে স্বপ্নের মতো। আমার বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের বামনডাঙ্গা টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে হয়। প্রচণ্ড গরমে অনেক সময় পানি ওঠেই না। তখন ২৫–৩০ টাকা দিয়ে ড্রামভর্তি পানি কিনে খেতে হয়”।

মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ী গ্রামের কালি বালা হালদার বলেন, “আমাদের এলাকায় অধিকাংশ নলকূপে লবণাক্ত পানি ওঠে। এই পানি খেয়ে নানা রোগে ভুগতে হয়। প্রতিদিন তিন থেকে চার কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়। এখানে মিঠা পানির ব্যবস্থা করা জরুরি”।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি ও সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বলেন, “সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নেওয়া অনেক প্রকল্পই প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন”।

তিনি বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় টেকসই সমাধান হিসেবে পুকুর খনন করে পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) স্থাপন কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে”।

কয়রা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে এবং অনেক ডিপ টিউবওয়েলেও লবণাক্ত পানি ওঠে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ট্যাংক, ডিপ টিউবওয়েল ও গভীর নলকূপ বিতরণ করছে। আশা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে”।

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। অতীতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নে অনিয়ম ও সমন্বয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। তীব্র গরমে লবণাক্ত ও দূষিত পানি পান করে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সামগ্রিকভাবে কাজ করা হবে”।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা