মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪১ পিএম
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে টানা ১৩ মাস বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে টানা ১৩ মাস অচল হয়ে আছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ টেকনাফ স্থলবন্দর। নাফ নদী সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক হাজারের বেশি বন্দর শ্রমিক।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এ অচলাবস্থা কাটাতে নবনির্বাচিত সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
স্থবির ব্যবসা, আটকে কোটি কোটি টাকা
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে আটকে আছে।
তাদের অভিযোগ, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির উৎপাতের অজুহাত দেখিয়ে এতদিন বন্দরটি অচল রাখা হয়েছে। যদিও মিয়ানমারের অনেক ব্যবসায়ী এখন নিজেরাই আরাকান আর্মির বিষয়টি সামলে পণ্য পাঠাতে রাজি বলে জানিয়েছেন। তবুও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর কোনো অনুমতি দেয়নি।
টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, “ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ব্যাংক ঋণের কিস্তি, অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া এখন তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
মানবেতর জীবন কাটছে শ্রমিকদের
দীর্ঘসময় পণ্য লেনদেন বন্ধ থাকায় বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। কাজ না থাকায় অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম বলেন, “১৩ মাস ধরে কাজ নেই, সংসার অচল হয়ে গেছে। ধার-দেনা করে দিন কাটছে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচও চালাতে পারছি না। বন্দর চালু না হলে আমাদের টিকে থাকা কঠিন”।
রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আগে নিয়মিত কাঠ, শুঁটকি, সুপারি, আদা ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হতো। এসব পণ্য থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত। কিন্তু বন্দর বন্ধ থাকায় সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, তারা এলসি করে ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডলার মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পণ্য আমদানি বন্ধ থাকায় সেই অর্থ এখনো মিয়ানমারেই আটকে রয়েছে।
শিগগিরই সমাধানের আশ্বাস
উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “টেকনাফ স্থলবন্দর সচল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে স্থাপিত এই স্থলবন্দর দ্রুত সচল করার জন্য আমি কাজ করছি। আশা করছি, শিগগিরই এ সংকটের সমাধান হবে”।
এদিকে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনায় নিয়োজিত ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দ্রুত এই অচলাবস্থার অবসান হবে এবং বন্দরটি আবার সচল হবে”।