শামীম মিয়া, নরসিংদী
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৭ পিএম
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে, বিশেষ করে নরসিংদী জেলা অংশে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার এলাকায় ছয় লেন প্রকল্পের কাজের কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। রয়েছে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ। ফলে যান চলাচলে ধীরগতিতে যানজট দেখা দিতে পারে।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরু অংশে দুর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নরসিংদী জেলা অংশে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার এলাকায় ছয় লেন প্রকল্পের কাজের কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। রয়েছে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ। ফলে যান চলাচলে ধীরগতিতে যানজট দেখা দিতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ট্রাফিক তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, এ ব্যবস্থার ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নেত্রকোণা জেলাগামী যানবাহনের চাপ বাড়লেও যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে সিলেট অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করেন। ঈদে এই মানুষের বড় অংশই মহাসড়ক ব্যবহার করে বাড়ি ফেরেন। ফলে প্রতি বছরই ঈদের সময় এ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাসড়কের কোথাও সমস্যা দেখা দিলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভ্রাম্যমাণ দল দ্রুত তা মেরামতের কাজ করছে, যাতে চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায়। তবে ছয় লেন প্রকল্পের কাজ চলার কারণে অনেক জায়গায় সড়ক সরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে সবজির হাট ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে সাময়িক যানজটের আশঙ্কা করছেন চালকরা। এছাড়া ঢাকার প্রবেশমুখেও ঈদযাত্রীদের যানজটে পড়তে হতে পারে।
শ্যামলী পরিবহনের সুনামগঞ্জগামী বাসের চালক রিয়াজ হোসেন বলেন, স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব হলেও সড়ক সরু হওয়া ও বাসস্ট্যান্ডে লোকাল বাসের নিয়ম না মেনে যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশ যদি বিষয়গুলোতে দৃষ্টি দেয়, তাহলে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে মাধবদী বাসস্ট্যান্ড, শেখেরচর-বাবুরহাট বাসস্ট্যান্ড, পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ড, ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড ও ইটাখলা বাসস্ট্যান্ডকে যানজটপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে যানজট এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। যাত্রী ও চালকদের জন্য স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ছয় লেন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার অমিত কুমার বলেন, ঈদে এবার স্বাচ্ছন্দ্যে ঘরমুখী মানুষ চলাচল করতে পারবে। মহাসড়কের কোনো অংশে মেরামতের প্রয়োজন হলে আমাদের ভ্রাম্যমাণ দল সেখানে গিয়ে কাজ করবে। আমরা এবারের ঈদে সবার যাত্রা যেন আনন্দময় হয়, সেজন্য পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এবারের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক।