নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৬:২৭ পিএম
বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে বরিশাল থেকে ছয়টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে বরিশাল থেকে ছয়টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির একটি বাসের দুই স্টাফ মারধরের ঘটনার রেশ ধরে সোমবার সকাল থেকে এসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় রূপাতলী বাস টার্মিনালে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির একটি বাসের দুই স্টাফ মারধরের শিকার হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে আলোচনায় সমাধান না হওয়ায় সোমবার সকাল থেকে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে বাস সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে রূপাতলী টার্মিনাল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঝালকাঠির প্রবেশদ্বার কালিজিরা সেতুর ঢালে অস্থায়ীভাবে বাস রেখে সেখান থেকে যাত্রী পরিবহন চালু রাখেন ঝালকাঠির মালিক ও শ্রমিকরা।
বরিশাল বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, “একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির লোকজন তাদের বাস রূপাতলী টার্মিনাল থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি অবৈধ বাস স্ট্যান্ড চালুর চেষ্টা করছে। এ কারণে বিভিন্ন অজুহাতে বাস সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে”।
তিনি আরও দাবি করেন, রূপাতলী থেকে কোনো বাস ছেড়ে গেলে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা তা ঢুকতে দিচ্ছে না এবং মারধরের হুমকি দিচ্ছে। এতে বরিশাল–ঝালকাঠি, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, পিরোজপুর, বাগেরহাট ও খুলনা রুটে বাস চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রূপাতলী বাস মালিক সমিতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর ও চুরির অভিযোগ তুলেছেন ঝালকাঠি বাস শ্রমিকরা।
ঝালকাঠি শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, “রূপাতলী টার্মিনালে ঢুকতেই বাসপ্রতি ৪০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া অটোরিকশা সরানোসহ বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করা হয়। রাতে বাস রাখলে ব্যাটারি ও তেল চুরির ঘটনাও ঘটে”।
ঝালকাঠি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. মিলন বলেন, “যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আমরা বাস চলাচল বন্ধ করিনি। কালিজিরা এলাকায় বাস রেখে সেখান থেকে যাত্রী পরিবহন চালু রাখা হয়েছে”।
এদিকে দুই বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ভান্ডারিয়াগামী যাত্রী নাজনিন বলেন, “রূপাতলী কাউন্টারে এসে দেখি কোনো বাস নেই। প্রায়ই এভাবে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার”।
আরেক যাত্রী মুনসুর হাওলাদার বলেন, “আত্মীয়ের জানাজায় যাওয়ার জন্য বের হয়ে দেখি বাস চলছে না। এখন কালিজিরা গিয়ে বাস ধরতে হবে”।