ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ০০:০০ এএম
ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে নিরব হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় রবিবার ভোরে ক্ষুব্ধ জনতা ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডে তিনটি বাস জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং দিনভর সড়ক অবরোধ ও নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
জেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা জে লাইন পরিবহন, রয়েল এক্সপ্রেস ও নাঈম পরিবহন নামে লোকাল তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ফিলিং স্টেশন ও জে লাইন পরিবহন বাসের মালিকের দাবি, নিহত নিরবের পরিচিত ব্যক্তিরা বাসে আগুন দিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনার পর রবিবার সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ বাস-শ্রমিকরা ঘটনার তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে ঝিনাইদহ-মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। বন্ধ হয়ে যায় এই রুটে সব ধরনের যান চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বাসে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে ২ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা।
নিহত নিরব হোসেনের বাবা আলিমুর বিশ্বাস বলেন, রাতে ছেলের মামা ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তিনি বলেন, শুনেছি ফিলিং স্টেশনের শ্রমিকদের মারধরে আমার ছেলে নিরব মারা গেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
ঝিনাইদহের তাজ ফিলিং স্টেশন, সৃজনী পাম্প ও জে লাইন পরিবহনের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, তাজ ফিলিং স্টেশনে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, নিহত যুবকের পরিচিতজনরাই সৃজনী পাম্প ভাঙচুর ও টার্মিনালে তার একটি বাসসহ অন্যান্য বাসে আগুন দিয়েছে। যে ঘটনা ঘটেছে, তার বিচার হবে। তাই বলে একটা বিষয়ে অন্য ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর, বাসে আগুন দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বলে দাবি করেন তিনি।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, বাস টার্মিনালে কারা বাসে আগুন দিয়েছেÑ তা শনাক্তের কাজ চলছে। দ্রুত অগ্নিসংযোগকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, যুবক নিহতের ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। আসামিদের এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে বোতলে তেল কিনতে যান যুবক নিরব হোসেন। এ সময় কর্মচারীরা তেল দিতে পারবে না বলে জানান। নিরব কিছুক্ষণ পরে আবারও যান সেখানে। এ সময় অন্য এক ব্যক্তিকের বোতলে তেল দিতে দেখে প্রতিবাদ করেন তিনি। এরপর ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে কর্মচারীরা। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শনিবার রাতেই নিহত নিরবের বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ আটক তিনজনকে রবিবার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ঝিনাইদহ সদররের পোড়াহাটি ইউনিয়নের বারইখালী গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাছিম হোসেন, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রবিজুল ইসলাম ও সুরাট ইউনিয়নের কাস্টসাগরা গ্রামের সাফিয়ার রহমানের ছেলে দাউদ হোসেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যুবক নিহত হওয়ায় শনিবার রাতেই নিহতের বাবা আলিমুর বিশ্বাস বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে সদর থানায় মামলা করেছেন। সেই মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।