আল জাজিরা
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৫ এএম
ইরাকের বসরায় রুয়াইলা তেলক্ষেত্রে একটি গ্যাস ফ্লেয়ারে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশটি তাদের দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দিয়েছে; ৪ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের এই লেকচারার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে যে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়, তার অর্ধেকও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে একসময় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে উঠতে পারে।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী যদি ওই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোকে যথাযথভাবে সুরক্ষা দিতে না পারে, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
হির্স আরও জানান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাজারেও এরই মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হামলার প্রথম দিনেই এলএনজির দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি গত সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ।
ডিজেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে হির্স বলেন, গ্যাসনির্ভর দেশগুলো এখন বিকল্প হিসেবে পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ জ্বালানি অর্ডারেও প্রভাব ফেলছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে এ পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়তে পারে। এমন হলে অভ্যন্তরীণভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়বে, বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে।