খুলনা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সিইও বদলি
খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ০০:৪০ এএম
তছলিমা আক্তার। ফাইল ছবি
খুলনা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তছলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অবশেষে বদলি কার্যকর হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়াধীন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট অনুসন্ধানে দেখা যায়, তছলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায় এবং বদলির আদেশও জারি হয়। তবে সেই আদেশ তিন দিনের মধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বিশেষ প্রভাব এর কারণে স্থগিত হয়ে যায়। সূত্র জানায়, এটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের ফল।
তছলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তাকে খুলনা জেলা পরিষদ থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পদে বদলি করার আদেশ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটি জারি করলেও, তিন দিনের মধ্যেই আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক স্তরে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বিতর্ক ও স্থগিত আদেশ স্থানীয় প্রশাসনে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্যই নয়, বরং নির্বাচনি সময়ে প্রশাসনের ইমেজ ও কার্যকারিতার জন্যও উদ্বেগের কারণ ছিল।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তছলিমা আক্তারকে নতুন পদে বদলি করা হলে কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হয়। একজন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের প্রভাব ও স্থগিত আদেশের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় অনিশ্চয়তা ছিল। নতুন সরকারের পদক্ষেপ এই অনিশ্চয়তা দূর করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়টি অবশেষে স্বচ্ছভাবে সমাধান করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা প্রশাসনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের সংযোগ এবং স্বচ্ছতা বিষয়ে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।