আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫০ পিএম
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬ ১৭:২২ পিএম
শুক্রবারে হওয়া ভূমিকম্পে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। এর পরদিন শনিবার রাতে দোতলার একটি বীমের অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে যায়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বরগুনায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনে বীমের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। আতঙ্কে রাতেই হাসপাতালের বেড ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান অর্ধশতাধিক রোগী।
শুক্রবার হওয়া ভূমিকম্পের পর বরগুনার আমতলীতে শনিবার রাত ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
১৯৮৯ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ নির্মিত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনেই গত ৩৭ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি শুক্রবারে হওয়া ভূমিকম্পে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। এর পরদিন শনিবার রাতে দোতলার একটি বীমের অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে যায়। এতে কয়েকজন রোগীর গায়ে পলেস্তারা পড়লেও বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পরপরই শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত হাসপাতাল ভবন থেকে বেরিয়ে যান। অনেকেই সারা রাত হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করেন, কেউ আর ওয়ার্ডে ফিরে যাননি।
শিশু ওয়ার্ডের রোগী তানিয়া আক্তার বলেন, “হাসপাতালের বীম ধসে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সবাই আতঙ্কে পড়ে যায়। আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে চলে আসি। সারা রাত আর ওয়ার্ডে ফিরিনি”।
ছোট নীলগঞ্জ গ্রামের রোগী মোর্শ্বেদা বলেন, “রাতে চরচর শব্দ শুনে মনে হলো ভবন ভেঙে পড়বে। আমি দৌড়ে বাইরে নেমে যাই। অন্য রোগীরাও বেরিয়ে যান। কেউ আর রাতে ফিরে আসেনি”।
রোগীর স্বজন মো. শাহীন বলেন, “হঠাৎ করে বীমের অংশ ভেঙে পড়ায় সবাই খুব ভয় পেয়ে যায়। রোগীরা বেড ছেড়ে বাইরে নেমে যান”।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওয়ার্ড ইনচার্জ মোসা. মোর্শ্বেদা বেগম বলেন, “ভবনের ফাটা অংশ ভেঙে পলেস্তারা রোগীর গায়ে পড়ে। এতে শিশু ওয়ার্ডসহ অন্যান্য ওয়ার্ডের রোগীরা আতঙ্কে বাইরে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে”।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, “ভূমিকম্পে পুরাতন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। শনিবার রাতে দোতলায় একটি বীমের অংশ ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি বরগুনা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে”।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, “ঘটনাটি জানার পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডিপিপি অনুমোদন পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে”।