চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তরসহ চার উপজেলায় ৪৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত জেলে থাকলেও নিষেধাজ্ঞার সময়সহ চার মাসে ভিজিএফের চাল পাবেন ৩৯ হাজার ৪০০ জেলে।
সরকার মাসে ৪০ কেজি করে চার কিস্তিতে ১৬০ কেজি চাল বিতরণের ঘোষণা দিলেও জেলেদের মতে, কিস্তির চাপ ও সংসারের দৈনন্দিন খরচের তুলনায় এটি যথেষ্ট নয়।
সদর উপজেলার সাখুয়া এলাকার জেলে মমিন মিজি বলেন, “আমরা জেলেরা জাল বেয়ে ভাত খাই। আমাদের সমস্যা হলো মনে করেন, আমরা এই যে অভিযান আইতাছে- অভিযান আমরা পালন করি। আমরা জাটকা ধরিও না, আমরা আটকা পড়িও না।
“আমাদের জেলেদের কিস্তি-মিস্তি আছে- এটা পুরা সমস্যা কিছু কিছু কিস্তি নেয়, কিছু কিছু কিস্তি নেয় না। এখন এই কিস্তিগুলো কেমনে বন্ধ করা যায়- সেটার জন্য সরকার যদি কোনো কিছু করতো- তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।”
রনগোয়াল এলাকার জেলে আব্বাস ছৈয়াল বলেন, “দুই মাসের অভিযানেতো আমাদের বিরাট ক্ষতি হয়ে যায়। তারপরও দেখা যায় যে, সরকার নিষেধাজ্ঞা এলে আমরাতো মাইনা চলি। নদীতেতো আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর আমাদের তো অনেক লেভার ফাংশান আছে, ২-৩ হাজার লোক আছে যা অচল হয়ে যায়। দুই মাসতো বইয়া খাওয়ানো সম্ভব না।”
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, “আমগোরে যে চাউল দেয় ২ মাসের লাইগা, আমাগো ঘরে ৬-৭ জন খাওইননা আছে, মাইয়া-টাইয়া আমার প্রতিবন্ধী পোলা আছে। যদি সরকারে আমাগোরে কিছু টেয়া দিয়া সহযোগিতা করলে । যেহেতু ৬-৭'শ টেয়া খরচ লাগে এই লগে যদি কিছু দেয় খরচ আমগোরে দিতো, সহযোগিতা হইতো কিছু মাছ তরকারি কিন্না খাইতাম। ”
জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার মানিক বলেন, “নিষেধাঙ্গা সময়ে জেলেরা সচেতনতার পাশাপাশি আইন মেনে চলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নসহ পদ্মা-মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে ভালো ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে, তাহলে এই অভিযান ফলপ্রসূ হবে।”
তিনি বলেন, “আগামী পহেলা মার্চ ২ মাসের জন্য সেঞ্চুরি পিরিয়ড শুরু হবে। আমরা মনে করি, আসলে এই সেঞ্চুরি পিরিয়ড সফল করতে হলে ব্যবসায়ী জেলে এই সেক্টরে যারাই আছেন সকলকে সচেতন হইতে হবে, আইন মানতে হবে।”
এই দুই মাস নদীতে না নামতে ইতোমধ্যে সচেতন সভা, মাইকিং, পোস্টারিং এর মাধ্যমে জেলেদের সচেতন করা হয়েছে। নিষেধাঙ্গা সময়ে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে থাকবে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী।
মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে জাটকা রক্ষার জন্য ১২টি স্প্রিডবোটে টিম ভিত্তিক ২৪ ঘন্টা নদীতে টহলে থাকবে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্কফোর্স- জানান জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা মোহম্মদ ফখরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল আমাদের অভয়াশ্রম কার্যক্রম শুরু হবে চাঁদপুরে। আমরা এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশকে রক্ষা করা। সাথে অন্যান্য মাছও আমাদের রক্ষা পাবে, এবং প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সচেতন সভা, মাইকিং, পোস্টারিং এর মাধ্যমে জেলেদের সচেতন করেছি এবং এটা ২ মাস অব্যাহত থাকবে।”
মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, “ আমাদের জেলা টাস্কফোর্স এর মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট এবং অভিযান এটা সার্বক্ষণিক আমরা এরকম পরিচালিত করবো। জেলেরা যেনো জাল ফেলতে না পাবে, কিছু কিছু জেলে যারা জাল ফেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন আইন আনুগ ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করবো।
“নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।”