এলপিজি পাম্পে আগুন
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৯ পিএম
কক্সবাজারে একটি অনুমোদনহীন এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কক্সবাজারে একটি অনুমোদনহীন এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি ট্যুরিস্ট জীপ ও তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর আগে এ ঘটনায় দগ্ধ ও আহত হয়েছেন ১৫ জন।
তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি তদন্তে প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস স্টেশনটির আশপাশে ঘনবসতি ও একটি পর্যটকবাহী গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় গ্যারেজে ৪০টি জীপ পার্কিং করা ছিল। আগুনের ভয়াবহতায় ৩০টি জীপ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, কেবল ১০টি গাড়ি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। পুরো গ্যারেজটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জীপের মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আড়াই মাস আগে তৈরি করা তার গাড়িটিও আগুনে পুড়ে গেছে।
অন্যদিকে বসতঘর হারানো মুন্নী বেগম বলেন, সন্তানদের নিয়ে প্রাণে বাঁচতে পারলেও ঘরের আসবাবপত্র, পাঁচ ভরি স্বর্ণ ও নগদ তিন লাখ টাকা আগুনে নষ্ট হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশে আশপাশের বাসিন্দারা ঘরে আগুন জ্বালানো থেকে বিরত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আতঙ্ক এখনও কাটেনি; অনেকেই আত্মীয়দের বাসায় গিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষম ট্যাংক ঘিরে আগুনের সূত্রপাত হয়।
অনুমোদন না নিয়ে মাত্র তিন দিন আগে চালু হওয়া পাম্পটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। অনুমোদন না নিয়ে পাম্প চালু করায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে, বলেন মোরশেদ হোসেন।