মো. নাঈম ইসলাম, শেরপুর
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৪ পিএম
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
“শুরু থেকেই ছয়-সাত লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। এখন অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে নামাজ আদায় করা হচ্ছে।
“এলাকার যুব সমাজের উদ্যোগে একটি প্রিপেইড লাইন আনার চেষ্টা চলছে। তৃতীয় রমজান পর্যন্ত আমরা অন্ধকারেই নামাজ পড়ছি”। কথাগুলো শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দাতা সদস্য পান্নার।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লি মোহাম্মদ সালাম মিয়া, যিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের কত টাকা কত দিকে অপচয় হয়। আর একটা মসজিদের বিলের জন্য বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হলো।
“আমরা অন্ধকারে নামাজ পড়ছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমাধান চাই”।
প্রায় সোয়া আট লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় মডেল মসজিদটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। এর ফলে রমজান মাসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সালাম মিয়ার মতো অনেক মুসল্লি। বাধ্য হয়ে মোমবাতির আলোতে নামাজ পড়তে হচ্ছে তাদের।
মসজিদ পরিচালনা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩৫ মাস ধরে মসজিদটির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আট লাখ ২৮ হাজার টাকা। বারবার নোটিশ দিয়েও বিল না পাওয়ায় গত ৬ জানুয়ারি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিউবো।
মসজিদটির জমকালো উদ্বোধন হয় ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি। এর পর থেকে বিল পরিশোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি পরিচালনা কমিটি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
আধুনিক এ মসজিদে এসি, ঝাড়বাতিসহ বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রয়েছে। এসব সামগ্রী বাবদ মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার বিল আসে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “আমি জানতে পেরেছি মসজিদের প্রায় সাত লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে জেলা পর্যায়ে কথা বলে ব্যবস্থা নেবে।
“যেহেতু বিপুল পরিমাণ বকেয়া, সে জন্য উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করতে হবে। মসজিদ নির্মাণের পর থেকে কোনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি। হস্তান্তরের পর স্থানীয়ভাবে বিল পরিশোধের কথা ছিল, এর জন্য আলাদা কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “মসজিদটি বড় পরিসরের এবং উপজেলা সদর থেকে দূরে হওয়ায় বিষয়টি জানতে দেরি হয়েছে। এখানে এসি ও লাইটের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিলও বেশি আসে।
“আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলব এবং কোনো বরাদ্দ বা ব্যবস্থা করা যায় কি না তা দেখব। আশা করি, একটা সুরাহা হবে”।
নালিতাবাড়ী উপজেলা পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আবদুল মোমিন বলেন, “আট লাখ ২৮ হাজার টাকা বকেয়া হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এটি এসটি লাইন হওয়ায় ব্যবহার না করলেও মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি ডিমান্ড চার্জ আসে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কথা হলেও তারা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
“ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এসেছে, মডেল মসজিদগুলো বিল দিতে না পারলে প্রিপেইড মিটারে সংযোগ দেওয়া হবে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় লাইন কাটা হয়েছে। আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বটুকু আমরা পালন করছি”।
শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এস এম মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, “মডেল মসজিদের নিয়ম হলো প্রতি মাসে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল সরকার বহন করবে। বাকিটা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হবে। ১০০ ইউনিটের বিল দেড় থেকে দুই হাজার টাকা হয়, কিন্তু এই মসজিদে প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিল আসে। এ বিষয়ে সরকারি কোনো সমাধান আসেনি।
“আমরা বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছিলাম রমজান মাস বিবেচনায় কিছুটা ছাড় দিতে বা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে সংযোগ চালু রাখতে কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তারা মৌখিকভাবে জানিয়েছিল যে, বিল না দিলে সংযোগ কেটে দেবে। আমি আমার দপ্তরে বিষয়টি অবগত করেছি”।