নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫২ পিএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৪ পিএম
নবীনগর থানা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে রবিবার কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ২০ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার চরলাপাং গ্রামে সকালে ‘বালু সন্ত্রাসী’রা এ হামলা চালায় বলে অভিযাগ করেন স্থানীযরা।
তাদের ভাষ্য, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে যায় একদল ‘বালু সন্ত্রাসী’। গ্রামবাসী এর প্রতিবাদ করতে গেলে পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর এলাকা থেকে স্পিডবোট ও নৌকায় আসা লোকজন তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
স্থানীয়রা জানান, গুলিতে রুপ মিয়া, ইব্রাহিম, নুরুন্নবী, জসিম, সিয়াম, আলী হোসেন, শাখাওয়াত হোসেনসহ আরও অনেকে আহত হন, যাদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার পর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক এবং নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ মোতায়েন করা হলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বালু তুলছে কারা
নুরুল আমিন, রুপ মিয়া, আলী নেওয়াজ, জসিম মিয়া, জামাল মিয়া, তৌহিদ মিয়া, জামাল হোসেনসহ কয়েকজন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, শাখাওয়াত হোসেন পায়েল নামে পরিচিত একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। সরকারি ইজারা পাওয়া ‘মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স’নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে গুলি, হামলা ও ভয়ভীতি দেখায় সিন্ডিকেটটি। লাগামহীন বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার।
এ বিষয়ে সামিউল ট্রেডার্সের মালিক শাখাওয়াত হোসাত পায়েলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি ভাঙনের মুখে পড়ছিল। গ্রামবাসী বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হলে অনেকেই আহত হন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ তথা নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান হুঁশিয়ার করে বলেন, বালু মহালের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।