বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০১ পিএম
বগুড়ায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রভাতী হাসপিটাল এন্ড ডাগনেস্টিক সেন্টারে বৃহস্পতিবার ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বগুড়ায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার প্রভাতী হাসপিটাল এন্ড ডাগনেস্টিক সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জবা বালা রানী (৩০) বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের শিবাকলমা গ্রামের শিপন চন্দ্রের স্ত্রী। তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার তলপেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে প্রভাতী হাসপাতালে ভর্তি হন জবা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, গর্ভের সন্তান মারা গেছে এবং গর্ভপাত করাতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গর্ভপাতের প্রস্তুতি হিসেবে তাকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। স্বজনরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে সেখানে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জবার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের স্বামী শিপন চন্দ্র অভিযোগ করেন, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায় বলেও দাবি করেন তিনি।
হাসপাতালে ভাঙচুর
পরবর্তীতে জবার মরদেহ নিয়ে স্বজনরা প্রভাতী হাসপাতালে ফিরে এসে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাসপাতালে ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রভাতী হাসপাতালের ম্যানেজার রুবেল বলেন, “রোগীর স্বজনরাই হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধর করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।