খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩০ পিএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৭ পিএম
খাগড়াছড়িতে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উদযাপন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পহেলা ফাল্গুন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস—দুই উৎসবের মিলন যেন এক অনন্য আবহ তৈরি করেছে পাহাড়ে। বসন্তের রঙ আর ভালোবাসার আবেশে সেজেছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। প্রকৃতি আর মানুষের উচ্ছ্বাস মিলেমিশে তৈরি করেছে এক রঙিন, প্রাণময় দৃশ্যপট।
বসন্তের রঙে রাঙা পাহাড়
ফাল্গুনের প্রথম সকালেই পাহাড় যেন পরেছে নতুন সাজ। সবুজ পাহাড়ের বুকজুড়ে পলাশ-শিমুলের আগুনরাঙা ফুল, নীল আকাশের নিচে লাল-কমলার মায়াবী ছোঁয়া। সরিষা রঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি প্রকৃতির রঙের সঙ্গে যেন একাকার হয়ে গেছে। ভালোবাসা দিবসের আবেগ যুক্ত হয়ে খাগড়াছড়িকে পরিণত করেছে এক প্রাণের মেলায়।
ঘরোয়া আয়োজন, তবু উচ্ছ্বাসে ভাটা নেই
অন্যান্য বছরের মতো বড় পরিসরের বসন্তবরণ অনুষ্ঠান না হলেও, এবারের আয়োজন ছিল ছোট ছোট পরিসরে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পাহাড়ি জনপদ। তরুণদের কণ্ঠে বসন্তের গান, শিশুদের রঙিন পরিবেশনায় প্রাণ ফিরে পায় মঞ্চ।
বড় আয়োজনের অভাব থাকলেও উৎসবের আমেজে ছিল না কোনো ঘাটতি—বরং ঘরোয়া আবহে তা হয়ে উঠেছে আরও আন্তরিক।
পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয়দের ভিড়
সকালে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেলের পর জমে ওঠে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।
এবার বাইরের পর্যটকের চেয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিই ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয় মানুষটির হাত ধরে উপভোগ করেছেন বসন্তের রঙিন মুহূর্ত।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “বসন্ত আর ভ্যালেন্টাইন একসাথে উদযাপন করতে পাহাড়ের চেয়ে সুন্দর জায়গা আর নেই। পরিবেশটা অসাধারণ”।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা জানান, “বাইরের পর্যটক তুলনামূলক কম। জেলা শহরের কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয়রাই পরিবার নিয়ে বেশি আসছেন”।
নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ
উৎসব উপলক্ষে পর্যটন এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নেয় বিশেষ উদ্যোগ।
ভালোবাসা আর প্রকৃতির মিলন
খাগড়াছড়ির মনোরম প্রকৃতি আর বসন্তের আবেশ যেন ভালোবাসার দিনে একাকার হয়ে গেছে। পলাশের আগুনরাঙা ডাল, সরিষা রঙের পোশাক আর হাসিমাখা মুখ—সব মিলিয়ে পাহাড় হয়ে উঠেছে রঙিন আনন্দভূমি।
বড় আয়োজনের অভাব এবারের বসন্তকে দিয়েছে এক ভিন্ন, ঘরোয়া আবহ। তবে এই প্রাণচাঞ্চল্য স্থানীয় পর্যটন খাতে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো—প্রকৃতি আর ভালোবাসার এই মেলবন্ধন যেন বারবার ডেকে নেয় পাহাড়ের পথে।