মনিরুজ্জামান বাবলু, চাঁদপুর
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৫ পিএম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হাট-বাজারসহ যাবতীয় সব কাজে নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো হলেও কখনও ভোটকেন্দ্রে যাননি চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) নির্বাচনি আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা।
১৯৭০ জৈনপুরের পীরের অনুরোধ মেনে এই ইউনিয়নের নারীরা ভোট দিতে যাননা বলে জানা গেছে। মাঝে মধ্যে দু-একটি ভোটের সময় প্রার্থীদের কাছের আত্মীয়রা ভোট দিলেও তার সংখ্যা ছিল নামমাত্র।
এমন বাস্তবতা ভাঙতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এই ইউনিয়নের নারীদের পর্দা নিশ্চিত করে নারীদের ভোটকেন্দ্রে আনার উদ্যোগ নেন।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের দায়িত্বে শুধুই নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বুধবার দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীদের ভোটের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব নারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। নারীদের পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এবার নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে আসবেন।
ফরিদগঞ্জ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে নারী ভোটের জন্য ২০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। ওই বুথগুলোর জন্য সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য- পুলিশ, আনসার ভিডিপি এবং ৮টি কেন্দ্রের জন্য একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ৮ জন প্রার্থীকে ওই বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার জন্য চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৭০ জৈনপুরের পীরের অনুরোধ মেনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটের সময়েই ভোট দিতে যান না। মাঝে মধ্যে দু-একটি ভোটের সময় প্রার্থীদের কাছের আত্মীয়রা ভোট দিলেও তার পরিমাণ ছিল নামমাত্র। যদিও ভোট ছাড়া আর বাকি সব কাজেই ওই ইউনিয়নের নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বিচরণ করেন হাট-বাজারসহ যাবতীয় সব কাজে।
ওই ইউনিয়নে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ জন।