প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৪ পিএম
রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন মোশা রিমান্ডে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সরকার উৎখাতচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন মোশাকে এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। তার নামে গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, নারীর শ্লীলতাহানি, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে।
মোশার রিমান্ড মঞ্জুরের খবরে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে। একই সঙ্গে তারা মোশার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে থানার সামনে জড়ো হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে থানার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সময়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন রূপগঞ্জের সাধারণ এসব বাসিন্দা।
ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা-ডিবি জানায়, চলতি বছরের ৫ নভেম্বর গভীর রাতে নাশকতার চেষ্টাকালে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে মোশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার মোবাইলফোনে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঢাকায় নাশকতার জন্য পেশাদার সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও টাকা জোগানের তথ্যও বেরিয়ে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রূপগঞ্জ থানাধীন নাওড়া মধ্যপাড়া এলাকার আল মামুনের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, নারী নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হওয়া মামলায় চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের ৩ নম্বর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মোশাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে পুলিশ। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার মোশার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে তাকে রূপগঞ্জ থানায় আনা হয়।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ জনগনের সঙ্গে মোশার বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন মোশার নির্দেশে তার সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, চাপাতি, রড, হকিস্টিক, ট্যাঁটা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে স্থানীয় আল-মামুনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। ওই সময় বাদীর সৎমা নাজমা বেগমকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। ওই সময় তার শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে অনেকে আহত হন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন রিপন, সাইফুল, আলম, কামাল, মাতিন ও সাজিবসহ আরও অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এদের মধ্যে সাইফুলের মুখে হকিস্টিকের আঘাতে নিচের পাটির তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। কামাল ও আলমসহ অন্যরা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাদের বসতঘর ও আশপাশের বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ওই সময় ঘরের আসবাবপত্র, গেট, পানির ট্যাংক ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ছাড়া আলমারির ড্রয়ার ভেঙে চার লাখ টাকা, আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের ৪৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা শটগান থেকে পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একই সঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। হামলার সময় তারা বাদীর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল আলম বলেন, মামলার রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, ককটেলের উৎস শনাক্ত জানতে মোশাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। ওই মামলায় এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তাকে থানায় আনা হয়েছে। রাতে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও মোশাকে রাজধানীর মতিঝিল থানায় সরকার উৎখাতের মামলায় চার দিনের রিমান্ডে আনে ডিএমপির ডিবি। সে সময় মোশার কাছ থেকে অন্তত ৫৬ জন পেশাদার অপরাধীর তথ্য বেরিয়ে আসে। ওই অপরাধীরা ঢাকায় যানবাহনে আগুন ও বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণে পারদর্শী। আর তাদের দলনেতা হচ্ছেন মোশা।
বিশ্বস্ত সূত্রের ভাষ্য, মোশার কাছ থেকে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী অনেককেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপরই তাকে মতিঝিল থানায় দায়ের করা নভেম্বর মাসের একটি মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে আনা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মোশা ভয়ংকর অপরাধী। এর আগে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। সম্প্রতি তার অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রকাশ পাওয়ায় ঢাকা এসে আস্তানা গাড়েন। গড়ে তোলেন অস্ত্র ও মাদকের সিন্ডিকেট। রিমান্ডে তাকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে রূপগঞ্জের নাওড়াপাড়া এলাকা থেকে মোশার সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়। ধীরে ধীরে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন থেকে শুরু করে গোটা রূপগঞ্জের আতঙ্কের নাম ছিলো মোশা বাহিনী। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে থেকে রূপগঞ্জে অস্ত্রও মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন মোশা। রূপগঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষের জমি ও বাড়িঘর দখল, চাদাবাজি, চাঁদার দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মানুষের বাড়িঘরে হামলা, এমনকি নিরীহ মানুষকে তুলে এনে মোশার ‘টর্চার সেলে’ নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা। চাঁদা না পেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদেরও ওপরও চলত হামলা।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার ছত্রছায়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের জমি দখল, তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেন মোশা ও তার বাহিনী। ওই সময় একাধিকবার র্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলেও যেতে হয়েছিলো মোশাকে, তবে প্রভাবশালীদের তদবিরে জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের দমনে মোশা বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। নিজে নেতৃত্ব দিয়ে রূপগঞ্জ থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ, এমনকি রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর একাধিক হামলা ও গুলি চালিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে পুরোপুরি আত্মগোপনে চলে যান মোশা ও তার বাহিনীর সদস্যরা, তবে থেমে থাকেনি তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এলাকায় অস্ত্র ও মাদকের কারবার ও চাঁদাবাজি নির্বিঘ্নে চালিয়ে গেছেন তারা। তারা ভোল পাল্টে বিএনপির আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে গত এক বছর, তবে সে চেষ্টা সফল না হওয়ায় আত্মগোপনে থেকেই আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলার জন্য সক্রিয় ছিল তার কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের জন্য নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা দিতেন মোশা। বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন এলকায় ঝটিকা মিছিলের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল মোশা বাহিনী। আগামী নির্বাচনকে বানচাল করতে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রূপগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা, এমনকি রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন মোশা। তার সঙ্গে পলাতক আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার যোগাযোগ ছিল গত ১৫ মাস ধরে।
গত বছরের ১৫ মার্চ রূপগঞ্জ এলাকায় নিরীহ গ্রামবাসির ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মোশা ও তার বাহিনী। ওই হামলায় মোশা বাহিনীর গুলিতে নাওড়াপাড়া এলাকায় ১০ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। এর আগের বছর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে তাকে গেপ্তারে অভিযান চালাায় র্যাব। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেলেও আড়াই মাসের মধ্যে জামিন পেয়ে যান তিনি।
২০২৪ সালের ২৫ মার্চ মোশার নেতৃত্বে তার সশস্ত্র ক্যাডার নিরব, স্বাধীন, সাখাওয়াত উল্লাহ, আব্বাস, নাজমুল, রুবেল, আনোয়ার, জয়নাল, তাজেল, রিফাত, রায়হান, আলহাদি, জাগু, ভুট্টু, চোরা দুলাল, আব্দুল, আরমানসহ ৪০ থেকে ৫০ জন সদস্য পিস্তল, ট্যাঁটা, বল্লম, রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, সামুরাইসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে নাওড়ায় নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করেন।
রুপগঞ্জের একাধিক বাসিন্দা জানান, আওয়ামী লীগের সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশা মাদক, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল বাণিজ্যসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে কিছুদিন পরপরই স্থানীয়দের ওপর হামলা করতেন। পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দু্ই-একবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়েই ফের অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার ওপর চালানো হতো নির্যাতন। তুলে নিয়ে মোশার টর্চার সেলে নির্যাতন করা হতো।
কে এই মোশা
রূপগঞ্জের আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন ওরফে মোশা। হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র মামলা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫০টির বেশি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১ জুন ভারতে পালানোর সময় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। মাত্র আড়াই মাসের মাথায় গত বছরের ২১ আগস্ট জামিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

কিছুদিন ‘আত্মগোপনে’ থেকে মাফিয়া গডফাদারের ছত্রছায়ায় আবারও তিনি দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে আসেন। সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকায় এলাকায় শুরু করে মহড়া। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে বিশাল গাড়িবহর ও অবৈধ অস্ত্রধারী বডিগার্ড নিয়ে দাপিয়ে বেড়ান পুরো রূপগঞ্জ। এর বাইরেও মোশার রয়েছে বিশাল ট্যাঁটা ও হাতুড়ি বাহিনী। কেউ তার কথার বাইরে গেলেই তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
মোশার বডিগার্ডের সংখ্যা কত, তা অনেকের কাছে অজানা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রূপগঞ্জ থানার এক উপপরিদর্শক-এসআই জানান, মোশার সঙ্গে সবসময় অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কথিত বডিগার্ড হিসেবে ঘুরে বেড়ায়। প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসী মোশার দলের সদস্য ৭০ থেকে ৮০। এ সন্ত্রাসীরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অবৈধভাবে জমি দখল, হুমকি, ছিনতাই, মাদক কারবারসহ অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। কেউ চাঁদা দিতে রাজি না হলে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তারা ভয়ভীতি দেখায়। এলাকার মানুষ মোশা বাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা মোশার বাড়ি রূপগঞ্জের নাওড়া গ্রামে। নিজ বড় ভাইকে খুনের মধ্য দিয়ে অন্ধকার জগতে পা রাখা তার। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন ভাড়াটে সন্ত্রাসী। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ হয়ে এলাকায় জমি দখল, মানুষের ওপর হামলা, বিশেষ করে বিএনপিসহ আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হতো মোশা বাহিনীর।
মাদক, হত্যা, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও সরকারবিরোধী তৎপরতাসহ অনেক অপরাধের এ হোতার সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড হোক, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।