× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপি প্রার্থীর নামে ভাইরাল ‘ভোটের সম্মানি রশিদ’টি ভুয়া

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৮ পিএম

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিএনপি প্রার্থীর নামে ভুয়া ভোটের সম্মানি রশিদ। ছবি: দ্য ডিসেন্ট

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিএনপি প্রার্থীর নামে ভুয়া ভোটের সম্মানি রশিদ। ছবি: দ্য ডিসেন্ট

ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভোটার সম্মানি রশিদের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে—আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপি প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরী ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন। ভাইরাল হওয়া ওই রশিদে প্রার্থীর ছবি ও ধানের শীষ প্রতীকের পাশাপাশি এক নারী ভোটারের নাম, এনআইডি নম্বর এবং একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

তবে ‘দ্য ডিসেন্ট’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে রশিদটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এতে ব্যবহৃত তথ্যগুলোতে একাধিক অসংগতি রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রশিদটিতে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারির জাহানাবাদ গ্রামের ‘সাহেদা বেগম’ নামের একজন নারীর একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বর উল্লেখ রয়েছে। উল্লিখিত এনআইডি নম্বরটি আংশিকভাবে নীল কালিতে ঢেকে দেওয়া। দৃশ্যমান অংশ বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, ঢেকে রাখা অংশে এক বা দুইটি ডিজিট থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে এনাইডির নম্বরটি ১৪ বা ১৫ ডিজিটের।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এনআইডি কার্ডের নম্বরে ১৪ বা ১৫ ডিজিটের সংখ্যা হয় না। 

প্রতিবেদনে ইসির একটি ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে বলা হয়, “২০০৭/২০০৮ সালে যারা ভোটার হয়েছিল, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৩ ডিজিটের প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তাতে জন্মসাল যুক্ত করে ১৭ ডিজিট করা হয়। স্মার্ট কার্ড প্রদান করা শুরু হলে সবার এনআইডি নম্বর ইউনিক নম্বর ১০ ডিজিটে দেওয়া হয়। যারা স্মার্ট কার্ড পাননি বা নতুন ভোটার, তাদেরও ১০ ডিজিটের নম্বর দেওয়া হচ্ছে”।

অর্থাৎ, দেশের এনআইডি কার্ডের নম্বরটি ১০ ডিজিট, ১৩ ডিজিট বা ১৭ ডিজিটের হয়ে থাকে।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রশিদে উল্লেখিত বিকাশ ‘এজেন্ট’ নম্বরটিও যাচাই করে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। রশিদে দেখানো বিকাশ নম্বরে একটি সংখ্যা ঢেকে দেওয়ায় সংখ্যাটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য দ্য ডিসেন্ট ঢেকে দেওয়া সংখ্যায় ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা বসিয়ে বিকাশ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ওই ‘এজেন্ট’ নম্বরে ক্যাশআউট করার চেষ্টা করলে প্রতিটি ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা এসেছে, “এই নম্বরটি লেনদেনের জন্য উপযুক্ত নয়। অনুগ্রহ করে সঠিক নম্বর দিন”।

অর্থাৎ, প্রচারিত ছবিতে দেওয়া বিকাশ নম্বরে কোনো ‘এজেন্ট’ অ্যাকাউন্ট খোলা নেই।

দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফোন নম্বরটির ঢেকে দেয়া ডিজিটে ০ থেকে ৯ বসিয়ে সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলোতে কল করেও সাহেদা বেগমকে পাওয়া যায়নি। ৯টি সম্ভাব্য ফোন নম্বরের মধ্যে ৫টি বন্ধ পাওয়া গেছে, তিনটি নম্বরে যোগাযোগ করা ব্যক্তিরা সাহেদা বেগম নামে কাউকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন এবং একটি নম্বরে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ছবিটি অনুসন্ধান করে দেখা যায়, একটি ছবিই বিভিন্ন পোস্টে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভিন্ন কোণ থেকে তোলা অন্য কোনো ছবি, ভিডিও বা সরাসরি লেনদেনের অন্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, কী–ওয়ার্ড সার্চেও এ সংক্রান্ত অন্য কোন খবর, সূত্র বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যা তার প্রেস উইং কর্মকর্তা আবু তাহেরের নামে প্রচারিত।

এতে বলা হয়,  “সম্প্রতি ‘ভোটার সম্মানি রশিদ’ নাম দিয়ে একটি এআই কিংবা ফটোশপ–জেনারেটেড স্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে একটি মহল, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আসলাম চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে টাকা দিয়ে ভোট নিতে হবে না। দেশের সাধারণ মানুষ মাত্রই এই অপপ্রচার ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস”।

আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনি মিডিয়া টিমের সদস্য মোহাম্মদ আবু তাহের দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি পক্ষ গুজব ছড়াচ্ছে। তারা এআই দিয়ে ছবি তৈরি করে নোংরামি করছে। আসলাম চৌধুরীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এরকম ফেক আইডি দিয়ে নোংরামি করছে বট বাহিনী”।

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় মঙ্গলবার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ মোরছালিন।

এতে উল্লেখ করা হয়, ফেসবুকে ‘Md Ah Rakib’ নামের আইডিসহ একাধিক ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘ভোটার সম্মানি রশিদ’ নামে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন স্লিপ প্রচার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আবেদনে এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জন্য নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেও এই ধরনের কোন রশিদের মাধ্যমে টাকা বিতরণের তথ্যে সত্যতা পাওয়া যায়নি।

দৈনিক আমাদের সময়ের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি রায়হান উদ্দিন দ্য ডিসেন্ট-কে বলেছেন,  “আমি স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের কোনো রশিদের বাস্তব প্রমাণ পাইনি। কেউ এ ধরনের রশিদ সম্পর্কে অবগত নয়”।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা