শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩০ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৬ পিএম
শেরপুর জেলা সদরের পৌনে তিন আনি জমিদার বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত রঙমহল। সেটি এখন পাঠাগার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শেরপুর জেলা সদরের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন—পৌনে তিন আনি জমিদার বাড়ি। জমিদার সতেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীর বাসভবন হিসেবেই এই ভবনটির সূচনা হলেও সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন ঐতিহ্য ও কৌতূহলের এক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। গ্রিক ও ইউরোপীয় ধাঁচের মিশেলে তৈরি এই জমিদার বাড়ির স্থাপত্যশৈলী অনন্য। বড় আকৃতির চতুষ্কোণ স্তম্ভ ও কারুকার্যখচিত কার্নিশ এখনও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির গায়ে চুনসুরকির আস্তরণ, ছাদে ঢালাই লোহার রেলিং এবং পলেস্তারা প্রাচীন নির্মাণশৈলীর নিদর্শন বহন করে।
ভবনের অভ্যন্তরে রয়েছে একটি প্রাচীন মন্দির, যার বেদি ও অলংকরণ আজও পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণের রঙমহলটি ছিল জমিদার পরিবারের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। এখানে একসময় অনুষ্ঠিত হতো সংগীত, নৃত্য ও নাটকের আসর। রঙমহলের স্থাপনায় ছিল ফুল, লতা, পাতার নান্দনিক অলংকরণ, যা জমিদারি রুচি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করত। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই রঙমহলটির রঙ-রূপ অনেকটাই বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেই কবেই।
তবে পৌনে দুইশ বছরের পুরনো সেই রঙমহলটি এবার পেয়েছে নতুন রূপ ও পরিচয়। জ্ঞানভিত্তিক কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ শেরপুর গড়ার লক্ষ্যে কিছুটা সংস্কার করে ভবনটিতে গড়ে তোলা হয়েছে শেরপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পাঠাগার। এতে কৃষিশিক্ষায় জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
পাঠাগারটি মঙ্গলবার সকালে উদ্বোধন করেন শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান। এ সময় শেরপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সালমা লাইজু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তরফদার কৃষিশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানার্জন ও প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে প্রশিক্ষণার্থীদের আরও মনোযোগী ও উদ্ভাবনী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যক্ষ সালমা লাইজু বলেন, জমিদার আমলের ‘রঙমহল’ নামের একটি পুরনো ভবন সংস্কার করে ডিপার্টমেন্টাল লাইব্রেরি উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে লাইব্রেরিটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যে কেউ এখানে এসে পড়াশোনা করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে আমরা কিছু ডিপার্টমেন্টের বই রেখেছি। যদি কেউ বই উপহার দেয়, সেগুলোও এখানে সংরক্ষণ করা হবে।
এদিকে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় সচেতন মহল সাধুবাদ জানালেও ইতিহাসসমৃদ্ধ ‘পৌনে তিন আনি জমিদারের’ শেষ স্মৃতি ‘রঙমহল’ সংস্কারের সময় এর স্বরূপ কিছুটা পরিবর্তন করার অভিযোগ তুলেছেন। এতে নতুন প্রজন্ম রঙমহলের প্রকৃত সৌন্দর্য অবলোকন থেকে বঞ্চিত হবে বলে মনে করছেন তারা।