যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৩ পিএম
যশোর ঈদগা ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটের সমাবেশে মঙ্গলবার সকালে বক্তব্য রাখেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে দাঁড়িপাল্লা ও ‘হ্যা ‘-এর পক্ষে ভোট দিবেন। যারা রাষ্ট্রের সংস্কার, অসংগতি, মানুষের ভাগ্য এবং রাষ্ট্রের সিস্টেমের পরিবর্তন চাই, তারা হ্যাঁ- ও দাড়িপাল্লার পক্ষে ভোট দিবেন বলে আহ্বান জানান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
যশোর ঈদগা ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঙ্গলবার সকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা-দায়বদ্ধতা থাকলে দাঁড়িপাল্লা ও ‘হ্যা ‘-এর পক্ষে ভোট দিবেন । আর যারা পরিবর্তন চায় না, যারা স্বৈরাচার শাসক হতে চায়, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজের রাজ্য তৈরি করে তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় না, তারা না-এর পক্ষে ভোট দিবে। কারণ তাদের জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কোন শ্রদ্ধা ভালোবাসা-দায়বদ্ধতা নেই।”
জামায়াতের আমির আরও বলেন, “পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের মত আবারও কিছু অশুভ চক্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ নেতিবাচক ও মিথ্যা তথ্য প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এসব মিথ্যাচার করে কোন লাভ হবে না। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। ভুলভাল বুঝিয়ে মানুষকে বিপথগামী করা যাবে না।”
“পতিত সরকারের সন্ত্রাস চাঁদাবাজরা যে পথে গেছে তাদেরকেও সেই পথে যেতে হবে। মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে। নিজের নিজ্যতা আদায় করতে শিখেছে। প্রয়োজনে মানুষ আবারও রাস্তায় নামবে। তবে কোনো অশুভ শক্তির হাতে রাষ্ট্রকে তুলে দেবে না। ১২ ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মানুষ অপেক্ষা করবেন। ১২ ই ফেব্রুয়ারিতে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যালটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে” বলেন জামায়াত আমির।
কোন ধর্ম বর্ণের বিভেদ থাকবে না যদি জামায়াত সরকারে আসে এমন মন্তব্য করে ডঃ শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণ যদি আমাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমে জয়ী করেন। আমরা এই রাষ্ট্রকে আদর্শ রাষ্ট্রের রূপান্তর করব। এখানে কোন ধর্ম বর্ণের বিভেদ থাকবে না। মানুষে মানুষে বৈষম্য থাকবে না। যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু আমরা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
এর আগে যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, যশোর ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা। খুলনা বিভাগের আগে যশোর জেলার অবস্থান। অথচ এই জেলায় দীর্ঘদিনের মানুষের দাবীর পরও সিটি কর্পোরেশন হয়নি। এমনকি এ জেলায় কৃষি বিপ্লব ঘটেছে। এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু আজও পর্যন্ত জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমিরের কাছে এই যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, যশোর ১ আসনের মাওলানা আজিজুর রহমান, দুই আসনের ডাক্তার মোসলে উদ্দিন ফরিদ, ৩ আসনের আব্দুল কাদের, ৪ আসনের অধ্যাপক গোলাম রসুল, ৫ আসনের গাজী এনামুল হক, ৬ আসনের মুক্তার আলী সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সহ জেলার নেতারা।
সভায় জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান যশোরে ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক তুলে দেন।