ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৯ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৮ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের প্রার্থীরা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চায়ের রাজধানী, প্রবাসী অধ্যুষিত ও পর্যটন নগরী হিসেবে খ্যাত জেলা মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। ৭টি উপজেলা, ৬টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার জেলার সংসদীয় আসনের সংখ্যা চারটি। এবারের নির্বাচনে ওই আসনগুলোতে ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থকরা যাচ্ছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী), মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)Ñ এই তিনটি আসনে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনেকটাই নির্ভার।
মৌলভীবাজার-১
জেলার বড়লেখা
ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসন। এ আসনে রয়েছে বড়লেখা পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন
এবং জুড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন। এর
মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৮ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৬ জন এবং তৃতীয়
লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ২ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দুই উপজেলায় ১১৩টি
স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ৬৩২টি ভোটকক্ষে (৬১০টি স্থায়ী ও ২২টি অস্থায়ী) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত
হবে।
এই আসনটিতে ১৯৮৬
সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ইমাম উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৮ ও ১৯৯১
এবাদুর রহমান জাতীয় চৌধুরী জাতীয় পার্টির মনোনয়নে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত
নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শাহাব উদ্দিন, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির এবাদুর রহমান চৌধুরী,
২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শাহাব উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেনÑ বিএনপির
নাসির উদ্দিন আহমেদ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
(দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের মো. আব্দুন
নুর (ট্রাক) গণফ্রন্টের মো. শরিফুল ইসলাম (মাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল আহমদ (কাপ-পিরিচ)।
আসনটিতে মূলত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের মধ্যে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে
প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
এগিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ
উদ্দিনসহ অন্যরা।
আসন্ন সংসদ নির্বাচন
নিয়ে আসনটির বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত
আশ্বাস পাচ্ছি। নির্বাচনে বিএনপিকে ভালো ম্যান্ডেট দেওয়ার জন্য মানুষ প্রস্তুত। আমি
দলের চেয়ারম্যান মহোদয় ঘোষিত ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রকল্প সুচারুভাবে বাস্তবায়ন
ও জুড়ী-বড়লেখা উপজেলার সব সমস্যা সমাধানে জোর প্রচেষ্টা চালাব।
বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, আল্লাহ তা’আলার দরবারে শুকরিয়া
যে, আমরা যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। এলাকার ভোটাররা পরিবর্তন
চান। ভোটাররা সৎ নেতৃত্ব চান, সুশাসন চান। আমি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে বড়লেখা
ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাওর, পাহাড়সহ পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করা, নাগরিক সব সমস্যা
চিহ্নিত করে তার দ্রুত সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাব ইনশাআল্লাহ।
মৌলভীবাজার-২
জেলার কুলাউড়া
উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। এ আসনে রয়েছে ১টি পৌরসভা এবং ১৩টি ইউনিয়ন। আসনটিতে
মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮ জন
এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯২ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১০৩টি
স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ৬০০টি ভোটকক্ষে (৫১৫টি স্থায়ী ও ৮৫টি অস্থায়ী) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত
হবে।
মৌলভীবাজার-২
আসনে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মনোনীত প্রার্থী
এএনএম ইউসুফ নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নওয়াব
আলী আব্বাস খান, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির এমএম শাহীন,
ওই বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, ২০০১
সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএম শাহীন, ২০০৮
সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) নওয়াব আলী আব্বাস খান, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত
নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে গণফোরামের মনোনয়নে
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী
লীগের শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। তারা হলেনÑ বিএনপির
মো. শওকতুল ইসলাম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী (দাঁড়িপাল্লা),
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নওয়াব আলী আব্বাছ খান (ফুটবল), জাতীয় পার্টির
মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খান (কাপ-পিরিচ), স্বতন্ত্র
প্রার্থী এম জিমিউর রহমান (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা)
এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি)।
আসনটিতে মূলত
চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির মো. শওকতুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো.
সায়েদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক
খানের মধ্যে এমন আভাস পাওয়া গেছে।
বিএনপির মো. শওকতুল ইসলাম বলেন, মাটি ও মানুষের দল বিএনপি। এ দলের সব নেতাকর্মী দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, প্রয়াত আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া বর্তমানে তাদের সুযোগ্য
সন্তান দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনায় দেশ এগিয়ে যাবেÑ এ প্রত্যাশায় স্থানীয় ভোটাররা ধানের শীষে তাদের ভোটাধিকার দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর মো. সায়েদ আলী বলেন, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও সৎ লোকের শোষণ প্রতিষ্ঠায়
ভোটাররা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।
আসনটির স্বতন্ত্র
প্রার্থী ফজলুল হক খান বলেন, আমি কুলাউড়া উপজেলার দুবারের ভাইস চেয়ারম্যান ও একবারের
চেয়ারম্যান ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছি। আমি কুলাউড়া শহরে যানজট সমস্যা নিরসন
ও দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ ও সংস্কার না হওয়া রাস্তাঘাট সংস্কার ও নির্মাণে পদক্ষেপ নেব।
মৌলভীবাজার-৩
জেলার মৌলভীবাজার
সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৩ আসন। এ আসনে রয়েছে মৌলভীবাজার পৌরসভা ও
১২টি ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার
২১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৩১ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭
জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৪ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দুই
উপজেলায় ১৭৫টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ৯৩৪টি ভোটকক্ষে (৮৪৭টি স্থায়ী ও ৮৭টি অস্থায়ী) ভোটগ্রহণ
অনুষ্ঠিত হবে।
মৌলভীবাজার-৩
আসনে ১৯৮৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আজিজুর রহমান, ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে
জাতীয় পার্টির গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আজিজুর
রহমান, ১৯৯৬ সালের জুন মাসে ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির সাইফুর রহমান,
২০০১ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপি এম নাসের রহমান, ২০০৪ ও ২০১৪
সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সৈয়দ মহসিন আলী, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে
সৈয়দা সায়রা মহসিন, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেছার আহমদ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত
নির্বাচনে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে
এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। তারা হলেনÑ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী
সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বিলাল
(দেয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা)
ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জহর লাল দত্ত (কাস্তে)। আসনটিতে ১০ দলীয় জোট তাদের
প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বিলালকে মনোনয়ন প্রদান করে। সে হিসেবে
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নানের
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা ছিল। কিন্তু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বাধার কারণে তিনি সেদিন
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এমনিতেই এ আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী ও দলটির জাতীয় নির্বাহী
কমিটির সদস্য এম নাসের রহমানের অবস্থান সুদৃঢ়। দলীয় কোনো কোন্দল নেই। সবাই ধানের শীষের
পক্ষে একাট্টা। এ অবস্থায় ১১ দলীয় জোটের এই জটের কারণে তিনি অনেকটাই নির্ভার। ১১ দলীয়
জোটের দুই প্রার্থীর পক্ষে প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় ও জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা এখনও জোটের
প্রার্থীর পক্ষে মাঠে না নামায় ভোট দ্বিধাবিভক্ত হবে এটি নিশ্চিত।
বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান
বলেন, ধানের শীষের পক্ষে ভোটের মাঠে গণজোয়ার চলছে। কক্সবাজার ও মৌলভীবাজার জেলাকে পর্যটন
জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু পতিত স্বৈরাচার সরকার কক্সবাজারের জন্য হাজার
হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে কাজ করেছে। সেখানে এয়ারপোর্ট, রাস্তা, রেল লাইন সমুদয়
খাতে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু মৌলভীবাজারে এর ছিটেফোঁটা উন্নয়নও হয়নি। যার একমাত্র কারণ
এটি সাইফুর রহমানের জেলা। অতীতে এ জেলার যত উন্নয়ন হয়েছে তা বিএনপি সরকারের সময়ই হয়েছে।
আর কোনো সরকার বৃহৎ পরিসরে কোনো উন্নয়ন করেনি। আমাদের গ্রামীণ অবকাঠামোর যে রাস্তাঘাট
সেগুলো গত ১৭ বছর ধরে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো উন্নয়ন ও সংস্কারে পদক্ষেপ নেব।
শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করার পদক্ষেপ নেব।
১১ দলীয় নির্বাচনী
ঐক্য সমর্থিত ও খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, আমাকে জোটের
পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমার মনোনয়নে জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের
প্রার্থী লুৎফুর রহমান কামালী ভাই তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে আমার সঙ্গে
গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন।
জামাতের আব্দুল মান্নান ভাইও ইনশিআল্লাহ আমাদের সঙ্গে আসবেন। আমরা একসঙ্গে
মৌলভীবাজারে ইসলামী
ঐক্যের প্রার্থীকে বিজয়ী করব ইনশাআল্লাহ। আমি আশাবাদী যেভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে
বিজয় আমাদের নিশ্চিত।
মৌলভীবাজার-৪
জেলার শ্রীমঙ্গল
ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৪ আসন। এ আসনে রয়েছে দুই উপজেলায় ২টি পৌরসভা
এবং ১৮টি ইউনিয়ন (শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন)। আসনটিতে
মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৭
জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ২ জন। ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দুই উপজেলায় ১৬৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ৯৩৯টি ভোটকক্ষে
(৮৯৮টি স্থায়ী ও ৪১টি অস্থায়ী) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মৌলভীবাজার-৪
আসনে ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মো. আহাদ মিয়া ও ১৯৯৬
সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির শফিকুর রহমান ছাড়া এ আসনে আর কোনো
দলের প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। আসনটিতে এ দুজন ছাড়া ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে
আওয়ামী লীগের মো. ইলিয়াস, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের জুন, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে
অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. আব্দুস শহীদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেনÑ বিএনপির
মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি বিদ্রোহী মো. মহসিন
মিয়া মধু (ফুটবল), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয়
নাগরিক পার্টির প্রীতম দাশ (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙ্গল)
ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আবুল হাসান (মই)।
মৌলভীবাজার-৩
আসনের মতো এ আসনটিতেও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের
জট রয়েছে। জোট থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি নাকি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে মনোনয়ন
দেওয়া হয়েছেÑ তা নিশ্চিত করা হয়নি। তাই এখানে জোটের শরিক দুই দলের দুই প্রার্থী ময়দানের
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। দুজনই ১১ দলীয় নির্বাচনী
জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এ আসনটিতে বিএনপি
জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি
থেকে বহিষ্কৃত মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মো. মহসিন মিয়া
মধুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। তবে ওই দুই প্রার্থীর সঙ্গে
শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার
লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী
জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব প্রীতম দাশ ও একই জোটের শরিক
দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উপদেষ্টা মাওলানা শেখ নূরে আলম
হামিদী। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট এ আসনটিতে
জোটের শরিক দুই দলের দুই প্রার্থীকে উন্মুক্ত রেখেছে। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন
মোহাম্মদ আব্দুর রব। তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও এখনও দলটির
নেতাকর্মী-সমর্থকরা দুই প্রার্থীর মধ্যে কারও প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় দেখা
যায়নি। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আসনটিতে প্রথম থেকে
একক প্রার্থী ঘোষণা করলে এবং দুই প্রার্থীর মধ্যে একজনকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার
থেকে সরিয়ে নিলে এখানে বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন
মিয়া মধু ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থীর
মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার হতো বলে সাধারণ ভোটারদের অভিমত। তবে চা বাগান সমৃদ্ধ
এ আসনটিতে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে অনেকটা ভূমিকা রাখে চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘুদের ভোট।
বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিগত প্রায় ২৫ বছর যাবত এ এলাকার সাধারণ মানুষের
সুখে-দুঃখে একাত্ম হয়ে তাদের মধ্যে মিশে রয়েছি। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের প্রতিটি অলিতে-গলিতে
নিজের উপার্জিত টাকায় অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। দুই উপজেলার মানুষ আমাকে অত্যন্ত
ভালোবাসেন। সে হিসেবে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে আমি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
আমি নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, চা-শ্রমিক থেকে
শুরু করে শ্রমজীবী, কর্মজীবী মানুষের কল্যাণে কাজ করা, এলাকায় একটি প্রাইভেট বা পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রচেষ্টা চালাব।
জাতীয় নাগরিক
পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম
দাশ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একটা পরিবর্তন
চাইছেন। চাইছেন একটা নতুন রাজনৈতিক ধারা তৈরি হোক। সবাই চাইছেন বাংলাদেশ নতুনভাবে সাজবে
এবং বিগত দিনের মতো এখন মানুষ নতুন করে আর ফ্যাসিস্ট দেখতে চায় না। এ জন্য
আমরা ব্যাপক সাড়া
পাচ্ছি। আমি পর্যটন, যুব উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ
অন্যান্য বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।