পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৬ পিএম
সারজিস আলম ও নওশাদ জমির। ছবি: কোলাজ (প্রতিদিনের বাংলাদেশ)
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ (সদর-তেঁতুলিয়া-আটোয়ারী) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান শনিবার বিকালে পৃথকভাবে তাদের এ নোটিশ পাঠান।
পৃথক নোটিশে তাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি অমান্য করে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুনের ব্যবহার, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীর অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান।
সারজিসকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রার্থী সারজিস আলম তার নির্বাচনী জোট প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেন। অথচ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কেবল নিজ দলীয় প্রধানের ছবি ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। নিজ দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করায় আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে তিনটি তোরণ নির্মাণ করা হয়, যা আচরণ বিধিমালার বিধি ১৩(ক) লঙ্ঘনের শামিল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল না করেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বিধি ১৬(ক)-এর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিকে করা শোকজে বলা হয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি বিকেল থেকে পঞ্চগড় পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পৌরসভার সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে তার বা তার কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে একাধিক আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়ে। ১০ দলীয় জোটের নির্মিত তিনটি তোরণের মধ্যে দুটি অপসারণ করা হলেও পরবর্তীতে করতোয়া ব্রিজের দুই পাশে বিধি লঙ্ঘন করে স্থাপিত ফেস্টুন অপসারণকালে তার কর্মী-সমর্থকরা বাধা প্রদান ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। অনুমোদিত ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি আকারের পরিবর্তে প্রায় ৬ ফুট × ৩ ফুট আকারের ফেস্টুন ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক আইডি দাখিল না করে প্রচারণা চালানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েত এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকির অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আচরণ বিধিমালার ৭(গ), ৭(৬), ১৩, ১৫(গ) ও ১৬(ক) ধারার লঙ্ঘন বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে সারজিস বলেন, “আমি এখনো দেখিনি। তবে শুনেছি। বিএনপি একাধিক আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছে। তবে আমাদের ব্যানার সকালে লাগিয়ে বিকেলে সড়িয়ে নিয়েছি। রবিবার সকালে এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবো”।
নওশাদ জমিরের এজেন্ট নওফল জমির বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা শোকজের জবাব দেবো। এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে পারি। সেখানে তাদের প্রশ্নের জবাব দেবো আমরা”।