নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪০ পিএম
পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন রুপশাকে দেখতে গিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নিজের ১৬ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে নদীতে ফেলে থানায় হাজির হয়ে নিজেই গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মুনতাহিন বেগম (২৫) নামে এক নারী।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর ব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় রুপশা নামের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে শিশুটি পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং সে শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরে মুনতাহিন বেগম থানায় এসে জানান, তিনি তার মেয়েকে মাহমুদপুর ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীতে ফেলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের গ্রেপ্তারের দাবি করেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় খমির শেখ নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি শিশুটিকে নদীর পানি থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।পুলিশ তার কাছ থেকে শিশুটিকে হেফাজতে নিয়ে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে।”
শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বলেন, “আমার স্ত্রী কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সেই কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা তার মানসিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমি নিজে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেছি। যিনি শিশুটিকে উদ্ধার করেছেন, তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শিশুটির পরিবার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মায়ের মানসিক চিকিৎসা করানোর আশ্বাস দিয়েছে।”