রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৫ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৯ পিএম
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোট শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে এবং বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গণভোটের মাধ্যমে আসবে। এ কারণে ভোটারদের উচিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে রাজশাহীতে পৃথকভাবে বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজশাহী বিভাগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন, রাজশাহী বিভাগ, ৮টি জেলা ও উপজেলার কর্মকর্তাসহ সকল স্টেকহোল্ডার ও সুধিজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নমত থাকলেও গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যেই দ্বিমত নেই। কারণ এটি জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, মানুষ এখন ভোট দিতে চায়, কিন্তু সেই পরিবেশ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গণভোট হচ্ছে আইনি ভিত্তি। গণভোটের চাইতে বড় কোন আর আইনি ভিত্তি হয় না। গণভোটের প্রতীক হচ্ছে টিক চিহ্ন। এতে জুলাই জাতীয় সনদ মানতে নির্বাচিত সরকার বাধ্য হবে, না মানলে তা নৈতিক হবে না। সেজন্য তারা জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ বিষয় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে। গণভোটের অঙ্গিকার না মানলে আইনি লড়াই করার সুযোগ থাকবে।
তিনি তত্বাবধায়ক সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশে নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকার জরুরি। এজন্য সকল রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এটা করতে হবে। তাবেই তা সকলের কাছে গ্রহয়যোগ্য হবে।
গণভোট সম্পর্কে সচেতনতায় দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি
গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। তৃণমূলে গণভোটের বিষয়ে অস্পষ্টতা দূর করার জন্য মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত দুদিন বরিশাল ও রাজশাহীতে বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আগামী কয়েক দিনে অন্য সব বিভাগেও একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব কর্মসূচিতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল (১৪ জানুয়ারি) রংপুর, ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম, ১৭ জানুয়ারি ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ, ২২ জানুয়ারি সিলেট এবং ২৪ জানুয়ারি খুলনা বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন ও বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আরও জানানো হয়, মতবিনিময় সভায় গণভোট বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও অন্য স্টেকহোল্ডারদের সচেতন করা হবে।