নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১০ পিএম
ককটেল বিস্ফোরণে ভেঙে গেছে জানালার কাচ। সামনে বসে আছেন সেলিমের স্ত্রী ও তার কন্যা। পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন সেলিম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নারায়ণগঞ্জ সদরে চায়ের দোকানে রামদা নিয়ে বসার প্রতিবাদের জেরে গভীর রাতে ভাড়াবাসায় ককটেল হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।
পুলিশ জানিয়েছে, ফতুল্লার চিতাশাল মুসলিমপাড়া এলাকায় শনিবার রাত ২টার দিকে হানিফ মিয়ার ভাড়াবাসায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ঘরের জানালার থাই গ্লাস ভেঙেছে এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মুসলিমপাড়ার ‘ইটালির বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বাসার ভাড়াটিয়া হানিফ মিয়ার ছেলে সেলিম। আর পাশের আরেকটির বাসার ভাড়াটিয়া মিজানুর রহমানের দুই ছেলে নাইম (৩৫) ও রোমান (৩০)।
মিজানুর রহমানের দুই ছেলেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত নাইম ও রোমান। সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে রামদা নিয়ে ঘোরাফেরা করেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় হানিফ মিয়ার বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে এক হাতে রামদা ও অন্য হাতে চা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন নাইম, পাশে ছিলেন রোমান। এ সময় সেলিম প্রতিবাদ করায় তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান নাইম। এক পর্যায়ে তিনি রামদা দিয়ে সেলিমকে আঘাত করার চেষ্টাও করেন। হাতাহাতির এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সেলিমের বাবা হানিফ দার আঘাতে আহত হন।
রোমান হত্যার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন হানিফ। তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যার ওই ঘটনার পর মধ্যরাতে সেলিমের ঘরের জানালায় ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণে জানালার থাই গ্লাস ভেঙে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় খাট, দরজা ও অন্যান্য আসবাবপত্র।
সেলিম, তার ঘুমন্ত স্ত্রী ও শিশু কন্যা ওই ঘরে থাকলেও আহত হনননি বলে জানান হানিফ।
সেলিম বলেন, “বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে দেখি আমাদের লেপ, খাট আর মেঝেতে কাচের টুকরো ছড়িয়ে আছে। আমরা ভয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তখন নাইম হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেন, “অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”