মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৩ পিএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:০১ পিএম
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হিলালী বলেছেন, ‘আজ যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি নেতাকর্মী সৎ, নামাজি হতো তাহলে দেশের অবস্থা এই হতো না।’
আমি ৫০টি বছর এ দল করেছি। আমার বাড়ি ঘরের কোনো উন্নতি নেই। আজকে যারা বিএনপি করেন বড় বড় কথা বলেন; তারা সেদিন কোথায় ছিলেন। সমালোচনা করবেন না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শহরের শোলাকিয়া এলাকার
স্কলারস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী
বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন
তিনি।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হিলালী বলেন, আল্লাহ শুনে
ফেলেছে হাসিনারে ধরেছে সামান্য কথার জন্য। তার পরিণতি দেখলেন ৮-১০ দিনের মধ্যে একটা
লৌহ মানব, লৌহ শাসক বিদায় হয়ে গেল। কেউ রক্ষা করতে পারল না কেন? সেদিন ছাত্ররা জেগেছিল।
এই শহীদ জিয়ার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আমাদের সেই আদর্শ আছে, আমরা সবাই শুধু
খাই খাই করি। দলাদলি করি, জিন্দাবাদ করি অমুকের অমুকের। আমরা একবারও ভাবি না এক মহান
আল্লাহ ছাড়া আমাদের ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারবেÑ পারবে না।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, আমাকে থানা কমিটিতে রাখেনি,
পৌর কমিটিতে রাখেনি, জেলা কমিটিতে রাখেনি এমনকি একটা সম্মেলন হলো সেখানেও দাওয়াত করেনি।
এটা কি এমন কোনো দলÑ যেটা না করলে আমি মারা যাব; আমাকে পরকালে কৈফিয়ত দিতে হবে! তাই
সরে এসেছিলাম। এখনকার নেতারা যে হুংকার দেন আমরা যদি রাস্তায় নামি পাস তো দূরের কথা
জামানতই ফিরে পাবেন না। আমাকে বাধ্য করবেন না, দেয়ালে পিঠ যদি ঠেকে যায় আমি অন্য
কিছু চিন্তা করব না।
দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায়
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চরশোলাকিয়া দারুস সালাম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা
আবদুল হামিদ। একই সঙ্গে তার জীবনের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস
নসিব করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানানো হয়। পাশাপাশি মোনাজাতে দেশ ও জাতির
শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের
মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর
ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ সুলতান মিয়া, যুবদলের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক
সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সুজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইদ সুমন, সহ-সভাপতি সোয়েব
সাদেকিন বাপ্পি, সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ সোয়ান, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
অনিক রহমান, আবদুল আলী প্রমুখ।
এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী,
স্থানীয় ব্যক্তিরা, সমাজসেবকসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।