কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৬ পিএম
বীচ ক্লিনিং কার্যক্রম। ছবি: প্রবা ফটো
প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা সংবাদমাধ্যমগুলো ঘাটাঘাটি করলে আমরা প্রায়ই নানা রেকর্ড ভাঙা কিংবা গড়ার খবর দেখি। অদ্ভুত সব রেকর্ড গড়ায় উন্মুখ বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ।
রেকর্ড না হলেও কিছুটা সেরকমই এক ঘটনা ঘটেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। এক ঘন্টার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্লাস্টিক সহ ২৫০ কেজি বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহ করেছে একদল স্বেচ্ছাসেবক। মিনিটের হিসেবে যা দাড়ায় ৪.১৬ কেজি। কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে ইপসা ও কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন যুব সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বীচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইনে শুক্রবার সকালে এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে ১২০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল।
বীচ ক্লিনিং কার্যক্রমে কক্সবাজারের ১২টি যুব সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় যুব প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সম্মিলিত উদ্যোগে সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ কেজি প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিবেশবান্ধব নগর ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে আমাদের গর্ব। এই সমুদ্র সৈকতকে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন রাখা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। সে লক্ষ্য অর্জনে সৈকত এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমিয়ে আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নাগরিক হিসেবে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি ‘গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফার সিটি’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে যুবসমাজকে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান।