× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফেনী সীমান্তে অবাধ ভারতীয় সিম, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৭ পিএম

ফেনী সীমান্তে অবাধ ভারতীয় সিম, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

ফেনীর সীমান্তবর্তী চার উপজেলা পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদরের বিভিন্ন গ্রামে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানির সিম কার্ড। শক্তিশালী ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্কের তরঙ্গ কম্পাংকের আওতায় ফেনী শহরসহ এসব উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পড়ায় বাংলাদেশে বসেই ভারতীয় সিম ব্যবহার করে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ কার্যক্রম চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দেড় থেকে ৫ হাজার টাকায় মেলা এসব সিম কার্ড ব্যবহারে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে। এছাড়া সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ সিম কার্ড ব্যবহারে অপতৎপরতার শঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন জানা গেছে, ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শুভপুর ও মহামায়া ইউনিয়ন, ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়ন, আমজাদহাট, আনন্দপুর ও মুন্সীরহাট এবং পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ও মির্জানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ভারতীয় সিম কার্ডে নির্বিঘ্নে চলছে ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের কার্যক্রম। শুধু তা-ই নয়, ভারতীয় সিমগুলোর ইন্টারনেট তরঙ্গ কম্পাংক ক্ষমতা এতটাই যে, ফেনী শহরে বসেও ভারতীয় মোবাইল ফোন কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নেট দুনিয়ায় সহজ বিচরণ সম্ভব হচ্ছে। 

জানা গেছে, দেড় হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় এসব ভারতীয় সিম কার্ড বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় সিম বিক্রির সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সীমান্ত এলাকায় এসব সিমের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং বাংলাদেশে বসেই সিমের রিচার্জ করা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবহারকারী জানান, বাংলাদেশি মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটসেবা না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা ভারতীয় সিম ব্যবহার করছেন। বারবার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার, মানব পাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সিম ব্যবহার করে নাশকতা ও অপতৎপরতার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা। এছাড়া ভারতীয় মোবাইল সিমের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। 

বাংলাদেশ সীমান্তে তরুণদের দাবি, দেশীয় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেটসেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করেন। তারা গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রি-ফায়ার, পাবজির মতো গেমও খেলছেন। তারা তাদের মোবাইল ফোনে ব্যবহার করেন ভারতীয় কোম্পানির এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন, রিলায়েন্স, এয়ারসেল, টেলিনরসহ বিভিন্ন কোম্পানির সিম।

আমজাদহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম মজুমদার বলেন, সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ভারতীয় মোবাইল সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ইতঃপূর্বে আমরা ভারতীয় সিম কার্ডের বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য নিরাপত্তা হুমকি। এসবের প্রতিকার চাই। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। 

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর ইসলামিক লয়ার্স শাখার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসাইন বলেন, ভিনদেশি সিম রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি খুবই উদ্বেগ হিসেবে দেখছি।

সীমান্তের চেতনা সংঘ ক্লাবের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম রাজিব জানান, ভারতীয় সিমের কারণে দুই দেশের চোরাকারবারিরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, ফলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ বাড়ছে। টাকার লোভে কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধরা অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি পুলিশ। ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ভারতীয় সিম ব্যবহারের বিষয়ে তারা শুনেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে সিমসহ গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ফেনীর পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভারতীয় সিমের বিষয়টি আমরা এর আগেও জেনেছি, বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের একটি ইস্যু। আমাদের মাধ্যমে সরকারকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করব।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, এখন পর্যন্ত আমরা এই ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি এরকম কোনো সিম কার্ড পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা