× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তীব্র শীতে যশোরে ১০ জনের মৃত্যু

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭ পিএম

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১০ পিএম

তীব্র শীতে যশোরে ১০ জনের মৃত্যু

তীব্র শীত জেঁকে বসেছে যশোরে। বৈরী আবহাওয়ায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ঠান্ডা ও ফুসফুসের সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) যশোর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। এ ছাড়াও জেলায় ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ শতাধিক মানুষ। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছেÑ নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে চলা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তা ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। 

শুক্রবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শতাধিকের প্রায় সবাই ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছে ৫৪ জন শিশু।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগে মৃত্যুর হার বেশি দেখছি। ঠান্ডার প্রকোপ বেশি থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ফুসফুসের সংক্রমণ ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি। এ ক্ষেত্রে বয়স্করা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন।’

শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। সেই সঙ্গে যুক্ত হওয়া উত্তরের ঠান্ডাবাতাস শীতের তীব্রতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। 

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় প্রতিবেদক জানান, উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে পৌষের শেষে দাপট দেখাচ্ছে শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে জেলার মানুষজন। জেলাজুড়ে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে খুব কমই বের হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১০-১২ কিলোমিটার বেগে হিমালয় থেকে আসা হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। 

দিনাজপুর : হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক জানান, আবহাওয়া শুক্রবারও ছিল হিমেল হাওয়ার দখলে। শুক্রবার ভোরের আলো ফোটার আগেই কনকনে ঠান্ডায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে দিনাজপুর। সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ, যা তীক্ষ্ণ ছুরির মতো শরীরে বিঁধছে।

নীলফামারী : জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিবেদক জানান, নীলফামারীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাসে নাকাল জনজীবন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে ছিন্নমূল মানুষ। গত তিন দিনে ঘণ্টাখানেকের মতো সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের পর থেকে ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়। ফলে শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে জেলা সদরসহ ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ জেলায় হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো শিশির কণা ঝরছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।

জেলা শহরের বড় বাজার ট্রাফিক মোড়ের রিকশাচালক আবু তালেব, লিটন, মমিনুর বলেন, ‘পরিবারের খাবার জোগান দিতে হয় রিকশা চালিয়ে। গত তিন দিন ধরে সকালে স্ট্যান্ডে এসে বসি থাকি, কিন্তু যাত্রী নাই, শহর একবারেই ফাঁকা। লোকজনের দেখা মিলছে না।’

তীব্র শীতের প্রভাবে নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিস্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দিকাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগ নিয়ে প্রতিদিন রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন। হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, ‘চিকিৎসাসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতামূলক নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ 

পূর্বাভাস : এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ শনিবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শুক্রবার থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ে ৬.৮ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ সিলেটে ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তা ছাড়া বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আজ শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। অন্যদিকে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বা মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা