বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম
বাঞ্ছারামপুরের দড়িভেলানগর গ্রামের মতো একটি প্রত্যন্ত এলাকায় নারীদের জন্য যুগোপযোগী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে মনে করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘এই মাদ্রাসার মাধ্যমে এখানকার নারী শিক্ষার্থীরা কেবল কোরআন ও হাদিসভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং আধুনিক শিক্ষার আলোয়ও আলোকিত হওয়ার সুযোগ পাবে। দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত একজন নারী মানেই একটি আদর্শ পরিবার, একটি নৈতিক সমাজ এবং একটি সুস্থ জাতি গঠনের শক্ত ভিত।’
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের দড়িভেলানগর পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সংলগ্ন এলাকায় আল মনোয়ারা আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এখান থেকে এমন শিক্ষার্থী গড়ে উঠবে, যারা একজন আদর্শ মা, সচেতন নাগরিক ও দ্বীনদার মানুষ হিসেবে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।’
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মাইজপাড়া মাহমুদন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনতা ব্যাংক পিএলসির সাবেক ডিজিএম মো. সিরাজুল ইসলাম, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম চৌধুরী, ইউপি সচিব মো. নাসির উদ্দিন, শাহ রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম, শাহ রাহাত আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দারুস সালাম কাজল, সাংবাদিক এম এ আউয়ালসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, নারী শিক্ষার বিকাশ ছাড়া সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এলাকার নারী শিক্ষার্থীদের দ্বীনি চাহিদা পূরণে আল মনোয়ারা আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাদ্রাসাটিতে নূরানী, নাজেরা ও হেফজ বিভাগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি, বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকবে। অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষিকাদের মাধ্যমে সুন্নাতে নববীর অনুশীলনভিত্তিক পাঠদান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং নিয়মিত মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা হবে।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ হেলাল এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ মোহাম্মদ আবুল বাশার বাদশা।