লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৪ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৮ পিএম
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে রাতের আঁধারে নতুন করে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।বিষয়টি ১৫-বিজিবি’র নজরে আসার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়। বিজিবির হস্তক্ষেপের ফলে বিএসএফ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং পর্যায়ক্রমে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিতে শুরু করে।
স্থানীয়
বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের খুব কাছাকাছি প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে
পাকা সড়ক নির্মাণের প্রস্তুতি চলছিল। খবর পেয়ে বিজিবি টহল জোরদার করে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার (৮
জানুয়ারি) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর ১টায় খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক মেইন
পিলার নম্বর ৯৩৪-এর কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন
বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের। ভারতের পক্ষে ছিলেন কোচবিহার জেলার
সাহেবগঞ্জ থানাধীন মেঘ নারায়ণের কুঠি বিএসএফ ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর দীপক কুমার।
বিজিবি ও স্থানীয়
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৪-এর ১ এস থেকে ৯৩৪-এর ১১ এস পর্যন্ত প্রায়
এক কিলোমিটার এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায়
কুর্শাহাট-দিনহাটা সংযোগকারী একটি প্রধান সড়ক রয়েছে। সড়কটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে
কোথাও ৫০ থেকে ৭০ গজ, আবার কোথাও ১০০ থেকে ১২০ গজ দূরত্বে অবস্থিত। ওই সড়কের পূর্ব
পাশে গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফের পাহারায় রাতের বেলায় নতুন পাকা সড়ক নির্মাণকাজ
চলছিল।
খলিশাকোঠাল
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মজির রহমান ও নুর আলম লিপু জানান, দুই-তিন দিন ধরে পুরনো
সড়কের পাশেই নতুন করে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বিজিবি
টহল জোরদার করে।
এ বিষয়ে
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী
ইমাম বলেন, বিএসএফ নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট করছিল। খবর পেয়ে ১৫ বিজিবি
ব্যাটালিয়নের অধীন শিমুলবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার নরেশ চন্দ্র রায়
দ্রুত গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক
রাখতে এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিজিবি ও বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে আরেকটি পতাকা
বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।