হলফনামা
মেরিনা লাভলী, রংপুর
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৩ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২০ পিএম
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসন জামায়াতে ইসলামীর মর্যাদার আসন। এ আসন থেকে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে এ আসনের সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল ও বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এই তিন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভোটাররা বলেছেন, শিক্ষা ও মর্যাদায় জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম এগিয়ে থাকলেও সংসদীয় আসন পরিচালনায় অভিজ্ঞ বিএনপি-জাতীয় পার্টির প্রার্থী। এটিএম আজহারুল ইসলাম ধন সম্পদের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও এগিয়ে রয়েছে বিএনপির মোহাম্মদ আলী ও জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল।
জানা যায়, জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুর বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা প্রফেসরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ৭৩ বছর বয়সি এটিএম আজহারুল ইসলাম এমএ পাস। তার বর্তমান পেশা রাজনীতি হলেও তিনি আগে ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার রয়েছে কৃষিজমি ৪ বিঘা, অকৃষিজমি ১০ শতক, আড়াই লাখ টাকা মূল্যের টিনশেড বাসা, আরেকটি ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের টিনশেড বাসা রয়েছে।
এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য, রংপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার বদরগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান বাড়ি পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা। ৭৩ বছর বয়সি এইচএসসি পাস মোহাম্মদ আলী সরকারের বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল হয়েছে। তার পেশা কৃষি ও ব্যবসা। অবস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ টাকা ৩ লাখ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমনতে বিনিয়োগ ১০ লাখ টাকা। মোহাম্মদ আলীর নিজ নামে সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি মাইক্রোবাস ও ছেলের ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল রয়েছে। স্বর্ণালংকার হিসেবে তার নিজ নামে ১২ ভরি রুপা ও স্ত্রীর নামে ২১ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। তার মোট স্থাবর সম্পদের মূল্য ২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর আগে তিনি ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে রংপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।
বদরগঞ্জ উপজেলার মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা আনিছুল ইসলাম মণ্ডল স্নাতক পাস। তার বয়স ৫৯ বছর। আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের নামে কোনো মামলা ও দায়-দেনা নেই। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় করেন ব্যবসা থেকে ১৬ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ অর্থ ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ৩ হাজার ১২ টাকা, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ১৬ হাজার টাকা, সাড়ে ৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি। তার ৫০ তোলা স্বর্ণালংকার, ১টি পিস্তল ও একটি শর্টগান রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের ১১ দশমিক ৮৫ একর কৃষিজমি, ২ দশমিক ৮২ একর অকৃষিজমি, ৪ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাণিজ্যিক ভবন, ১২ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে।