মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৪ এএম
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ফোরলেন প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম গোলাম রব্বানী। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় জায়গীর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ওই জমিটি সরকার অধিগ্রহণ করে। নিয়ম অনুযায়ী গোলাম রব্বানী ওই জমির বিপরীতে সরকার থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেন। জমিটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর একবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভবনটি বুলডোজার দিয়ে আংশিক ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি পুনরায় সেই বিতর্কিত জায়গায় চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জায়গীর বাসস্ট্যান্ডের মতো ব্যস্ততম এলাকায় মহাসড়কের সীমানা ঘেঁষেই এই চারতলা ভবনটি মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। এতে ফোর লেন রাস্তার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই পয়েন্টে ভয়াবহ যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পুনরায় এই অবৈধ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন গোলাম রাব্বানী।
আব্দুল মতিন নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গোলাম রব্বানী একদিকে সরকারের কাছ থেকে জমির টাকা নিয়েছেন, আবার সেই সরকারি জায়গাতেই দাপটের সাথে ভবন তুলছেন। এর আগেও সওজ ভবনটি ভেঙে দিয়েছিল, কিন্তু তিনি আইন-কানুনের পরোয়া করেন না।
বাছেত আলী নামে আরেকজন বলেন, ‘তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে দিনের পরিবর্তে রাতেই বেশিরভাগ ভবনের কাজ চালাচ্ছেন। ভবনটির পাশেই একটি বিদ্যুতিক সংযোগের খুটি ও পড়েছিল সেটিও টাকার বিনিময়ে সরিয়ে ফেলেছেন। এখন আমাদেরকে গোলাম রব্বানী বলছেন, প্রশাসনকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েই কাজ করছেন তিনি। এজন্য কারোই বাধা মানছেন না।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম রব্বানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরকারি জায়গা দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এখন একটু পরিস্থিতি শান্ত। সড়ক বিভাগের লোকজন বলেছে, আপাতত কাজ করেন। তাই আমি মার্কেট করছি।’
অন্যদিকে, রংপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং খুব শীঘ্রই সার্ভেয়ার পাঠিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা আশিক জামান বলেন, বিষয়টি একটু সড়ক ও জনপদ বিভাগকে জানান। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।