× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মৌলভীবাজার

বাংলা পান চাষে ভাটা

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩০ পিএম

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১০ পিএম

বাংলা পান চাষে ভাটা

আবহমান গ্রামবাংলার আতিথেয়তার অন্যতম অংশ পান। বিশেষত সিলেট অঞ্চলে অতিথি আপ্যায়নে চা-পানের গ্রহণযোগ্যতা যুগ যুগ ধরে স্বীকৃত। মৌলভীবাজারের পাহাড়ি ও সমতল জনপদে বাংলা পান চাষের ইতিহাসও বহু প্রাচীন।

একসময় জনপ্রিয় জাতের মিষ্টি বাংলা পানের জন্য জেলার খ্যাতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছেছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে এ জেলার বহু পুরনো কৃষি ঐতিহ্য।

জেলায় দুই ধরনের পান চাষ হয়Ñ খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঝাল খাসিয়া পান এবং বাড়ৈ সম্প্রদায়ের মিষ্টি বাংলা পান। তবে বাংলা পানের পরিচিতি ও চাহিদাই ছিল বেশি। প্রায় এক দশক আগেও জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখত এ অর্থকরী ফসলটি। জেলার সদর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলায় ছয় শতাধিক বাড়ৈ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত পান চাষ করে। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র অর্ধশতাধিক পরিবারে।

পান চাষিরা জানান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারদর স্থবিরতা ও বাহিরের পান বাজার দখল করায় চাষিদের লাভের বদলে ক্ষতিই বাড়ছে। এ ছাড়া বরজ তৈরির অপরিহার্য উপকরণ সংকট ও দাম বৃদ্ধি, পাশাপাশি শ্রমিক সংকট চাষিদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে। 

মৌলভীবাজার জেলার সদর, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন বাংলা পানের বরজে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় জেলায় উৎপাদিত বাংলা পানের সিলেট, ঢাকা, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ যুক্তরাজ্যে ভালো বাজার ছিল। কিন্তু নানা কারণে এ বাজার ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বাংলা পানের উৎপাদন খরচ বাড়লেও পানের বাজারদর বাড়েনি। ফলে এ পান চাষে মুনাফার পরিবর্তে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ একর জমিতে বাংলা পান চাষাবাদ হচ্ছে। এ পান চাষের জন্য সরকারের কোনো প্রকল্প এ অঞ্চলে আপাতত নেই। যতটুকু বাংলা পান চাষ হচ্ছে তার পুরোটাই চাষিদের নিজ উদ্যোগে হচ্ছে। আগে জেলার সদর, কুলাউড়া, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার বাংলা পান চাষে জড়িত ছিল। বর্তমানে এ সংখ্যা অর্ধশতাধিকে এসে দাঁড়িয়েছে। 

জেলার রাজনগর উপজেলার টুপিরমহল গ্রামের বাংলা পান চাষি কোলনিশি দে বলেন, আগে এ পানে আমাদের সংসার চলত, সচ্ছলতা ছিল। এখন পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে সামান্য কিছু পান চাষ করছি। আমাদের এলাকায় আগে যা পান চাষ হতো, এখন তার শতভাগের একভাগও হয় না।

শ্রীমঙ্গলের যাত্রাপাশা গ্রামের তুষ্টি দে বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন ও কম বৃষ্টিপাতের কারণে আগের মতো ফলন হয় না। ব্যয় বেশি, আয় কমÑ তাই মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে।

কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের কুড়িগ্রামের সুব্রত কর জানান, ৮ শতাংশ জমিতে পান চাষ করতে বরজ তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা, এ ছাড়া প্রতি বছর বরজ মেরামতে ব্যয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো। এত খরচ করে কাঙ্ক্ষিত লাভ হয় না। 

একই এলাকার বাবুল দত্ত বলেন, বাইরের পান বাজারে আসায় আমরা নিজের মূলধনই তুলতে পারি না। তাই মানুষ পান চাষ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

মৌলভীবাজার সদরের ধোবারহাট শেখের ইজরা গ্রামের পুলিন ধর জানান, দেড় কেয়ার জমি থেকে সপ্তাহে ৪-৫ কুড়ি পান পাই। বর্তমানে কুড়িপ্রতি দাম ৭০০-৯০০ টাকা। কিন্তু বিঘাপ্রতি ৬০-৬৫ হাজার টাকা খরচ হলে লাভ হয়ে ওঠে না। আমি বাপ-দাদার স্মৃতিকে ধরে রাখার প্রয়াসে এ পেশা টিকিয়ে রেখেছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, একসময় এ জেলায় প্রচুর বাংলা পান হতো। এখন তা কমে এসেছে, বেশি চাষ হচ্ছে খাসিয়া পান। যদি সরকারি প্রকল্প বা প্রণোদনা আসে, তবে আবার বাংলা পানের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা