মেরিনা লাভলী, রংপুর
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০২ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৭ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রংপুরের প্রার্থীদের অর্থ-সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। রংপুর জেলার প্রাণকেন্দ্র রংপুর-৩ আসন। সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ২৪টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে এবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতের মাহবুবার রহমান বেলাল, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল ও তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী। চার প্রার্থীর মধ্যে অর্থবিত্ত ও শিক্ষায় এগিয়ে রয়েছেন জিএম কাদের। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামুজ্জামান সামু একজন ব্যবসায়ী। বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে হওয়া ২২টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের নামে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া ১১টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। বিগত সময়ে তিনি শিক্ষকতা করলেও এখন তিনি পরিবহন ব্যবসায়ী। ইসলামী আন্দোলনের শূরা সদস্য ও রংপুর মহানগরের সেক্রেটারি আমিরুজ্জামান পিয়ালের নামে কোনো মামলা ও দায়-দেনা নেই। অষ্টম শ্রেণি পাস তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী একজন ব্যবসায়ী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হলেও পেশায় একজন রাজনীতিবিদ। জিএম কাদেরের নিজ নামে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি এবং ৮০ লাখ টাকা মূল্যে স্ত্রীর নামে একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। স্বর্ণালংকার নিজ নামে ১১ তোলা ও স্ত্রীর নামে ১০ তোলা রয়েছে। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র নিজ নামে দশমিক ২২ বোর পিস্তল ১টি ও দশমিক ২২ বোর রাইফেল একটিসহ মোট সম্পদ নিজ নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার।
জিএম কাদেরের স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে লালমনিরহাটে সাড়ে ১১ শতক জমির ওপর সেমিপাকা বাড়ি, ঢাকার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে ৫ কাঠা ৫ ছটাক জমির ওপর আবাসিক ভবন ও স্ত্রীর নামে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে ৪ তলা বাড়ি।
বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু নগরীর রবার্টসনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। এমএ পাস সামসুজ্জামান সামু পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা ছিল, সবগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। সামসুজ্জামান সামু বার্ষিক আয় করেন কৃষি খাতে ৬ লাখ টাকা, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৬৭ টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে নিজ নামে ৮ হাজার ৫৭২ টাকা, স্ত্রীর নামে ১৩ হাজার ৬৭৫ টাকা, চাকুরী থেকে স্ত্রী পেনশন পান ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে সামসুজ্জামান সামুর কৃষিজমি নিজ নামে ১ হাজার ৩২৫ শতক, স্ত্রীর নামে ৪০৫ শতক রয়েছে। এ ছাড়া তার ৬৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি ও ১৭ লাখ টাকা মূল্যের কারখানা রয়েছে। সামসুজ্জামান সামুর কোনো দায়-দেনা নেই।
রংপুর নগরীর নিউ আদর্শপাড়ার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বেলাল অর্থনীতিতে এমএ করেছেন। বিগত সময়ে তিনি পেশায় শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে তিনি পরিবহন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। মাহবুবুর রহমান বেলালের বার্ষিক আয় বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থানসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়, ব্যাংক আমানত থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তার মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৫ লাখ টাকা।
মাহবুবুর রহমানের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ২২ শতক কৃষিজমি, ৫ লাখ টাকা মূল্যের ৪ দশমিক ৩৫ শতক জমি, ১ লাখ ৪ হাজার টাকা মূল্যের স্ত্রীর নামে ৩ শতক জমি। তার কোনো দায়-দেনা নেই।
ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল নগরীর লালকুঠি এলাকার বাসিন্দা। তিনি এইচএসসি পাস এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আমিরুজ্জামান পিয়াল বার্ষিক আয় করেন, ব্যবসা খাতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ২৪ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত ৯০ হাজার ৩৩৫ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, শেয়ারবাজারে থাকা অর্থ ৩ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানা ক্ষেত্রে আমিরুজ্জামানের অংশে বহুতল ভবনের ১২৭০ বর্গফুটের ৩ রুমের একটি ইউনিটÑ যার মূল্য ৩৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার কোনো দায়-দেনা ও মামলা নেই।
তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী নগরীর নুরপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি অষ্টম শ্রেণি পাস ও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। আনোয়ারা ইসলাম রানী বার্ষিক আয় করেন, ব্যবসা থেকে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ অর্থ দেড় লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ এবি ব্যাংকে ১৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৬ টাকা ও এবি ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯৬ টাকা রয়েছে। রানীর ৪০ লাখ টাকা মূল্যের একটি কার রয়েছে। এছাড়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে তার ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ৪০ ভরি রুপা রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে আনোয়ারা ইসলাম রানীর ১ কোটি টাকা মূল্যের ৬ শতক জমি ও ৮ লাখ টাকা মূল্যের ২ শতক জমি রয়েছে।