× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাউফল

খাদ্যগুদামে চাল কেনায় অনিয়ম

এমএ হান্নান, বাউফল (পটুয়াখালী)

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৯ পিএম

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৫ পিএম

খাদ্যগুদামে চাল কেনায় অনিয়ম

পটুয়াখালীর বাউফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একাধিক চালকল কাগজে-কলমে সচল দেখিয়ে চাল সংগ্রহ করে আসছে সরকারি খাদ্যগুদাম। অভিযোগ রয়েছে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা খাদ্য বিভাগের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে একটি চক্র বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল গুদামে সরবরাহ করে আসছেন। এভাবেই লোপাট হচ্ছে সরকারি টাকা। 

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার বগা ও কালাইয়া খাদ্যগুদামের জন্য প্রথম দফায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় ১৫৩০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে কালাইয়া খাদ্যগুদামের জন্য ৫৫০ মেট্রিক টন ও বগা খাদ্যগুদামের জন্য ৯৮০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের কথা রয়েছে। প্রতি কেজি চালের দাম ধরা হয় ৫০ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ চালকলে প্রক্রিয়াজাত করে গুদামে উৎকৃষ্ট মানের চাল সরবরাহ করবেন।

বগা খাদ্য গুদামের চাল সংগ্রহের জন্য সোনাই অটোরাইস মিল এবং কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য চাল সংগ্রহের জন্য সিকদার অটোরাইস মিল, সুচিত্রা রাইসমিল, হিরোন বালারাইস মিল ও প্যাদা রাইসমিলের সঙ্গে চুক্তি হয়। 

তালিকাভুক্ত চালকলগুলোর মধ্যে তিনটি চাতাল কয়েক বছর ধরে বন্ধ। অথচ কাগজে-কলমে এসব চালকল থেকেই চাল সরবরাহ দেখানো হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, সোনাই ও সিকদার অটোরাইস মিল বাদে বাকি তিনটি চালকলই বন্ধ রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ধান ভাঙানো, সিদ্ধকরণ বা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই। অনেক চালকলের যন্ত্রপাতিতে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চুক্তিবদ্ধ সুচিত্রা রাইসমিল গুদামে ২৬ টন চাল সরবরাহ করেছে। তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় কয়েক বছর ধরে সুচিত্রা চালকল বন্ধ। সুচিত্রার মালিক রমেশ সাহা জেলার বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল কিনে এনে গুদামে সরবারহ করেছেন। যদিও কাগজে-কলমে নিজস্ব মিল থেকে চাল সরবরাহ দেখানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে রমেশ সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে খবর প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিক ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

বড়ডালিমা এলাকায় সুচিত্রা রাইসমিলের পাশেই হিরোনবালা রাইসমিল রয়েছে। সেটিও বন্ধ। যদিও বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ হয় ৫২ টন চাল। 

বন্ধ মিল থেকে কীভাবে চাল সরবরাহ করা হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে হিরোনবালার মালিক শঙ্কর দাসও বাইরে থেকে চাল কিনে সরবরাহ করবেন বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সবাই কিনে চাল সরবরাহ করে। অফিসের সবাইকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই চাল সরবরাহ করে থাকি। একই এলাকায় প্যাদা রাইসমিলও কয়েক বছর ধরে বন্ধ। প্যাদা রাইসমিলের মালিক রশিদ প্যাদাও বাইরে থেকে চাল কিনে চাল সরবরাহ করবেন। 

চুক্তিপত্র অনুযায়ী মিলার চালের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশ, ভাঙা দানা, লাল ও মরা দানা মুক্ত চাল সংগ্রহ করা হবে। তবে গুদামে গিয়ে দেখা যায় চালের আর্দ্রতা কমবেশি রয়েছে। চালের মধ্যে ভাঙা দানা, মরা দানা ও লাল দানার পরিমাণ অনেক বেশি। এসব চাল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন গুদাম সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কালাইয়া খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবালুল রহমান সাংবাদিকদের কাছে অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। পরে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নুরুল্লাহ্ বলেন, আমরা যখন চুক্তিবদ্ধ হই তখন চালকলগুলো চালু ছিল। এখন বন্ধ থাকলে আমাদের কি করার কিছু নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা