ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৭ পিএম
শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস বইছে ঈশ্বরদীতে। প্রবা ফটো
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ পাবনার ঈশ্বরদীতে। এটাই এখন পর্যন্ত এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে শীতের প্রকোপ, স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বেলা ১১ টার দিকে সোমবার ঈশ্বদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে আজকেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রির ঘরে নেমেছে ঈশ্বরদীতে। তাপমাত্রা আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে বাতাসের আদ্রতা রয়েছে ৯৫ শতাংশের একটু বেশি। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে, গত শনিবার ৯ ডিগ্রি এবং শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়।
এদিকে পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, স্থবির জনজীবনে সবচেয়ে বিপাক রয়েছে ভাসমান, ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শীত নিবারনে বিতরণ থেকে সংগ্রহ করা একটি কম্বলই যেন ছিন্নমূল মানুষের একমাত্র সম্বল। শুধু তাই নয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় সৃষ্ট শৈত্যপ্রবাহে অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা দেখা যায়।
ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব গলিতে আগুনে শীত নিবারনের সময় কথা হয় স্টেশনে থাকা ভাসমান মানুষ রেহেনা বালার সঙ্গে। তিনি বলেন, “পোলামাইয়া লইয়া শীতের মধ্যে কই যামু। অতিরিক্ত শীতে কোনখানে যাইয়া শান্তি পাই না, তাই এহেনে আইয়া আগুন পোহাইতেছি।”
স্টেশন রোডে ভ্রাম্যমান দোকানী মো. জুলমত শেখ বলেন, টানা শৈত্যপ্রবাহে শীতের পরিমান এতটাই বেড়েছে যে মানুষ নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না। বেচাকেনা একেবারেই নেই, কীভাবে চলব বুঝে উঠতে পারছি না।
পৌর মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী জুয়েল বিশ্বাস বলেন, হাটে গিয়ে সেই ভোরবেলা সবজি কিনে এনে এখানে বসে বিক্রি করতে হয়। দু-তিনদিন অতিরিক্ত শীত আর কুয়াশায় বেচাকেনা নেই। তাই একটু চিন্তায় আছি।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমূল হক রঞ্জন বলেন, শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তাপমাত্রা আরও কমে শীতের পরিমান বাড়তে পারে।