হলফনামা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫২ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০০ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা দাখিল করেছেন। এতে তাদের আয়-ব্যয়, সম্পদ, মামলা ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করেছেন। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এসব তথ্য ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের আর্থিক ও আইনি অবস্থান স্বচ্ছভাবে উপস্থাপনের জন্য তা প্রকাশ করা হয়েছে। অফিস ও প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরÑ
ফেনী : খালেদা জিয়ার ফেনী-১ আসনে বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। হলফনামা অনুযায়ী রফিকুল আলম মজনুর পেশা ব্যবসা, তিনি ৩টি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তার স্ত্রীর পেশাও ব্যবসা, তিনি একটি ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী।
হলফনামা অনুযায়ী রফিকুল আলম মজনু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৮৩ টাকা আয় দেখিয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী নাজমুন নাহার হাসির সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৯১৯ টাকা।
মজনুর রাজধানীর শান্তিনগরে ছয় তলা বাড়ির একটি অংশ, জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে ১০ হাজার ১৬২ বর্গফুটের দোকান, শান্তিনগরের কনকর্ড মার্কেটের টুইন টাওয়ারে ১৯ দশমিক ৫৭ বর্গমিটারের দোকান, ছাগলনাইয়ায় জমি, পল্টনে চায়না টাউন মার্কেটে দোকান, শান্তিনগরে ফ্ল্যাট, দক্ষিণ শাহজাহানপুরে দুইটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
তার স্ত্রী নাজমুন নাহার হাসির নামে ঢাকার জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়াম এলাকায় দোকান, রামপুরা বনশ্রী এলাকায় ৬ তলা আবাসিক ভবন, পল্টনে ৮৫০ বর্গফুটের অফিস এবং আউটার সার্কুলার রোডে ১ হাজার ৯৫৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে।
মুন্সী রফিকুল আলম মজনু ১৯৭২ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শান্তিনগরের শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকায় বসবাস করছেন। তার বাবা মুন্সি গোলাম মোস্তফা ও মাতা রোজিয়া বেগম। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর।
ফেনী-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন। তার মোট সম্পদ রয়েছে ৯ কোটি ৮০ লাখ ৯২ হাজার ৩০৩ টাকা ও বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৩৬ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক জয়নাল আবেদিনের আয়ের প্রধান উৎস গৃহ সম্পত্তি ও কৃষি।
তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৩৫৮ টাকা। তার মধ্যে একটি গাড়ি, ২২ দশমিক ৮৭ তোলা স্বর্ণালংকার রয়েছে। স্থাবর সম্পদ মধ্যে রয়েছে ৫১১ দশমিক ৩ শতাংশের কৃষি জমি, ২৬৫ দশমিক ৫৩৬ শতাংশের অকৃষি জমি, একটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, ফেনীতে একটি বাড়ি, ঢাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট। তার স্ত্রী গৃহিণী শাহানা আক্তারের কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় ৫৩ হাজার ৫২৬ টাকা।
অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১৯৪৮ সালে ১ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত চান মিয়া ও মাতা মৃত ওজিবেন্নেসা।
জামালপুর: জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। কৃষি, ভাড়া ও চাকরি থেকে তার মোট বার্ষিক আয় কয়েক কোটি টাকার ঘরে। তার কাছে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি। নিজের নামে রয়েছে ১০৫ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ১৫০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার কাছে নগদ রয়েছে ৬৬ লাখ টাকার বেশি এবং তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ২২ লাখ টাকার বেশি। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু বিষয়ক সহসম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকার বেশি। এদিকে তার নামে ৫০ ভরি এবং তার স্ত্রীর নামে ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম হলফনামায় জানিয়েছেন, কৃষি ও ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় ১৩ লাখ টাকা। বর্তমানে তার কাছে নগদ রয়েছে ১০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর দুজনের নামে কৃষিজমিরও তথ্য রয়েছে।
জামালপুর-৫ (সদর) আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন পেশায় একজন আইনজীবী। আইনজীবী পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ টাকার বেশি। তার স্ত্রীর ব্যবসা খাত থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ টাকার বেশি। তার নামে ২৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি টয়োটা কার রয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর বিবাহের উপহার হিসেবে পাওয়া ১৫ তোলা স্বর্ণালংকারসহ এই দম্পতির নামে কৃষি ও অকৃষি জমির তথ্যও হলফনামায় দেওয়া হয়েছে।
রংপুর: রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন লড়ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এবার বিএনপি প্রার্থী শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা, জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান ও এনসিপির আখতার হোসেনের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
হলফনামা সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা কাউনিয়ার হারাগাছ পৌরসভার সারাই ডারারপাড় এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা রহিম উদ্দিন ভরসা সাবেক এমপি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ছিলেন। ৫৪ বছর বয়সি এমদাদুল হক ভরসা বি.কম পাস।
তার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে, নগদ টাকা নিজ নামে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৫ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে ৫৮ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২৩ হাজার ১৩০ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, কোম্পানির শেয়ার খাতে নিজ নামে ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩৪৮ টাকা, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডাক সঞ্চয়পত্রে ২ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০০ টাকা, বীমা ও ট্রাস্টে ৬২ লাখ ৩৩ হাজার ১০৩ টাকা রয়েছে। তার একটি বিএম ডব্লিউ গাড়ি, দুটি জিপ, ৭ একর কৃষিজমি, সাড়ে ১৬ শতক অকৃষি জমি, ১টি আবাসিক ভবন, ১১টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন কাউনিয়া উপজেলার ভায়ারহাট সদরা তালুক এলাকার বাসিন্দা। এলএলএম (মাস্টার্স) পাস আখতার পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী। আয়ের উৎসের মধ্যে তিনি বার্ষিক কৃষি খাতে ৮৫ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং চাকরি থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পীরগাছা উপজেলার ফকিরটারী গ্রামের বাসিন্দা। এমবিএ পাস ৪৬ বছর বয়সি মাহবুবার রহমানের পেশায় ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক ব্যবসা থেকে ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া সাড়ে ৬৫ শতক অকৃষি জমি রয়েছে।
ঝিনাইদহ : (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। নির্বাচনী হলফনামার তথ্যানুযায়ী, আইন পরামর্শক, স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া, ব্যবসা, ব্যাংক আমানত থেকে তার বার্ষিক আয় ৯৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র, দুটি প্রাইভেট কার, নগদ ও জমা অর্থসহ তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য পাঁচ কোটি টাকা। ঢাকায় জমি ও একাধিক ফ্ল্যাটসহ ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।
আসাদুজ্জামানের সাভারের বড় বরদেশী মৌজায় ৪৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। উত্তরায় ৬ কাঠা জমিতে পাঁচ তলাবিশিষ্ট ভবন, একই এলাকায় ৫ কাঠা প্লটের ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনের এক তৃতীয়াংশের মালিকানা রয়েছে। ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাটের এক তৃতীয়াংশের মালিকানাসহ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ১১৪ মাটিকাটা এলাকায় তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১.৮০ শতাংশ জমি।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিউর রহমানের কৃষি, শিক্ষকতা থেকে বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলের জেলা সভাপতি আব্দুল মজিদের ব্যবসা, কৃষি, সাইনিং মানিসহ বার্ষিক আয় ৫৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। মোটরযান, নগদ ও জমা অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ এক কোটি ৪৫ লাখ টাকার। ঢাকায় বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট সাতটি এবং ঝিনাইদহে ১১টি। জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকরের কৃষি, ব্যবসা ও শিক্ষকতা থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদ এক কোটি টাকার।
ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মেহেদী হাসানের কৃষি, বাড়ি, সম্পত্তি ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকা। জামায়াত প্রার্থী মতিয়ার রহমানের কৃষি, ব্যবসা ও সম্পত্তি থেকে বার্ষিক আয় চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ ৩৯ লাখ টাকা।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের চার ইউনিয়ন) আসনে রাশেদ খান পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা ও রাজনীতি। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা। রাশেদ খাঁনের ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজের ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য খাতে বার্ষিক আয় আট লাখ টাকা। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবু তালিবের কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে তার বাৎসরিক আয় সাত লাখ ৩৫ হাজার ৩৮২ টাকা।