বরগুনা-২
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৪ পিএম
বরগুনা-২ (বেতাগী–বামনা ও পাথরঘাটা) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে সুবিধা পাচ্ছে বিএনপি—এমনটাই মনে করছেন এলাকার ভোটাররা। স্থানীয়দের ধারণা, দুই ইসলামী দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে ভোট বিভক্ত হয়ে পড়বে, যার সরাসরি সুফল যাবে ধানের শীষের ঘরে।
তবে স্থানীয়দের মতে, এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি হওয়ায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের ঐক্যই ছিল তাদের জয়ের মূল নিয়ামক। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী, দুই দলের যে কোনো একটির আলাদা হয়ে যাওয়ায় উভয়ের জন্যই জয় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে এই আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে।
এ নির্বাচনি আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে ডা. সুলতান আহমদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. মিজানুর রহমান কাসেমী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জোটের বাইরে গিয়ে পাল্টাপাল্টি মনোনয়ন দাখিল করায় দুই দলের বিরোধ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। বরগুনা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, বরগুনা-২ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন—কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম মনি, জামায়াতে ইসলামীর ডা. সুলতান আহমদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মিজানুর রহমান কাসেমী, খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ ফরাজী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাব্বির আহমেদ, এনডিএম-এর সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান লিটন।
অন্যদিকে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—আমজনতার দলের মো. আলাউদ্দিন আকাশ, এনপিপির মো. সোলায়মান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শামীম ও মো. রাশেদ উজ জামান।
ইসলামী আন্দোলনের দাবি, বরগুনায় এখন পর্যন্ত একমাত্র বরগুনা-২ আসনেই তাদের জয়ের রেকর্ড রয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, তারা এ আসনে পিছিয়ে নেই।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম মনির বেতাগী উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এস.এম. নুরুল ইসলাম পান্না বলেন, বরগুনা-২ আসনে ধানের শীষের জনপ্রিয়তা শীর্ষে। জোট হোক বা না হোক, আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
জামায়াতে ইসলামীর বেতাগী উপজেলা সেক্রেটারি প্রভাষক শাহাদাত হোসেন বলেন, ডা. সুলতান আহমদ এ আসনে নতুন মুখ নন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে মানুষের পাশে আছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেতাগী উপজেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইউসুফ আলী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনের জনসমর্থন বেড়েছে। ইনশাআল্লাহ, সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচন করব।