ববি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১১ পিএম
ভালোবাসার মানুষকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ‘চোর’ অপবাদ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগী।বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শারমিন আক্তার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে গোপালগঞ্জ
সদর উপজেলার বৌলতলী গ্রামে নিজ বাড়িতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। শুভ বৈরাগী
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বৌলতলী
গ্রামের প্রয়াত সুখলাল বৈরাগী ও শেফালী বৈরাগী দম্পতির ছেলে। শৈশবেই বাবা-মাকে হারানো
শুভ তার বোন ও ভগ্নিপতির আশ্রয়ে বেড়ে উঠেছিলেন।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি তার এই
চরম সিদ্ধান্তের পেছনে প্রেমিকার পরিবারের নির্যাতন ও সামাজিক অপমানকে দায়ী করে গেছেন।
১ জানুয়ারি শুভ লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। পরে আত্মহননের পথ
বেছে নেন তিনি।
ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, কোটালীপাড়া উপজেলার কাফুলাবাড়ি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে
শুভর দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে ওই তরুণীর
জন্মদিন উপলক্ষে তাকে সরাসরি শুভেচ্ছা জানাতে তাদের বাড়িতে যান শুভ। সেখানে তরুণীর
পরিবারের সদস্যরা তাকে ধরে ব্যাপক মারধর ও রক্তাক্ত জখম করে।
শুভর অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পরেও তরুণীর জেঠা ও পরিবারের সদস্যরা
তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একটি ‘মিথ্যা ভিডিও’ ধারণ করে। সেখানে তাকে দিয়ে
স্বীকার করানো হয় যে, তিনি ওই বাড়িতে ‘চুরি’ করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই চুরির
অপবাদ শুভর এলাকায় ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে শুভ লিখেছেন, ‘তারা
সত্যকে আড়াল করে আমাকে মিথ্যা চোর অপবাদ দিয়ে সকলের কাছে দোষী করেছে। এতে আমার মানসম্মান
নষ্ট হয়েছে। আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারব না। তারা আমাকে জানে মারার চেয়েও বেশি
মেরে ফেলেছে।’
আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় প্রেমিকার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি উল্লেখ করে তিনি
আরও বলেন, টাকা আজ নেই কিন্তু কাল হতে পারতো, কিন্তু এই অপমানের পর বেঁচে থাকা তার
পক্ষে সম্ভব নয়। তার মৃত্যুর জন্য প্রেমিকা, তার বাবা, কাকা ও জেঠুকে সরাসরি দায়ী করে
গেছেন।
শুভর অকাল প্রয়াণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না। এ
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।