ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৬ পিএম
ভৈরবে মায়ের মৃত্যুতে মাতৃহারা নবজাতক। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ঝুমা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অুভযোগ উঠেছে।
হাসপাতালটিতে ঝুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) স্থানন্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর ১২টায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতাল পাহাড়া দিচ্ছে ভৈরব থানার পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা নিচ্ছেন মামলার প্রস্তুতি।
এর আগে ১ জানুয়ারি ভৈরবের ট্রমা অ্যাণ্ড জেনারেল হাসপাতালে ঝুমার সিজার হয়। সেসময় তিনি ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
নিহত ঝুমা বেগম পৌর শহরের কালীপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার কুদ্দুস মিয়ার মেয়ে ও উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া এলাকার তৌফিক মিয়ার স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয় ঝুমাকে। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় অপারেশন করেন ডা. হরিপদ সাহা ও এনেস্থিসিয়া দেন ডা. রাজিব। অপারেশনের পর রাত ১০টা পর্যন্ত ঝুমা বেগম মোটামুটি ভালই ছিল। তবে এরপর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
তারা আরও জানান, সারা রাতে ৮ ব্যাগ রক্ত দেয়ার পরও রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে ২ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে ঝুমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে চিকিৎসক। ঢাকায় নেয়ার পর আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের শাশুড়ী রিনা বেগম বলেন, ডাক্তার সিজার করতে গিয়ে আমার পুত্রবধুর জরায়ু কেটে ফেলেছে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েঝুমার মৃত্যু হয়েছে। আমরা শিশুটিকে কীভাবে মানুষ করবো। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে ঝুমার চাচা রাশেদ মিয়া জানান, আমার ভাতিজিকে ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করার পর আমরা বলি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অপারেশন করা জন্য। কিন্তু চিকিৎসক ডা. হরিপদ বলেন পরীক্ষা লাগবে না। এরপর অপারেশন করার কয়েক ঘণ্টা পর ঝুমার অবস্থা খারাপ হয়। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানান রক্ত লাগবে।
তিনি আরও বলেন, সারা রাতে ৮ ব্যাগ রক্ত দেয়া হলেও ঝুমার কোন উন্নতি হয়নি। শুক্রবার সকালে চিকিৎসক জানান রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। আমরা অস্বীকৃতি জানালে আমাদের রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাপ দেন তারা।
রাশেদ মিয়া দাবি করেন, তিনি ভৈরবের চিকিৎসককে মৃত্যুর কথা জানালে চিকিৎসক বিষয়টি আপোষ করতে বলেন।
এ বিষয়ে ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ঝুমাকে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়েছিলেন ডা. হরিপদ সাহা। অপারেশনের পর মা বাচ্চা অনেক ভাল ছিল। অপারেশনের পর রাতে হঠাৎ ঝুমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে আমাদের ডাক্তারগণ রক্ত দেয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।
তিনি আরও বলেন, পরদিন সকালে আবারও রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসক রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। রোগীর স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। আজ দুপুরে শুনতে পাই ঝুমার মৃত্যু হয়েছে।
মোশারফ হোসেন দাবি করেন, চিকিৎসক হরিপদ সাহা একজন দক্ষ চিকিৎসক। ওইদিন তিনি ঝুমাসহ তিনটি অপারেশন করেন। তিনজনের অপারেশন সফল হয়েছিল। ঝুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ভুল চিকিৎসায় ছিল না। ঝুমা শারীরিক ভাবেই দুর্বল ছিল। থানা থেকে পুলিশকে হাসপাতালে আনা হয়েছে যেন কোন রকম অপ্রীতিকর কোন ঘটনা না ঘটে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ডা. হরিপদ সাহাকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, রোগীর মৃত্যুর ঘটনা শুনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানালে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।