শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৭ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৫ পিএম
শিবালয়ে সরষের মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরষে ক্ষেত থেকে বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন ও সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষি। মৌচাষিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে সরষে ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মধু সংগ্রহ হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরষে ক্ষেত থেকে কোটি কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও সোনারগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌচাষিরা মধু সংগ্রহের জন্য সরষে ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বক্স বসিয়ে দিন রাত মধু সংগ্রহ করছেন তারা। মৌচাষিরা প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস থেকেই মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। এখন মধু সংগ্রহের ভরা মৌসুম। উপজেলায় সরষে আবাদে মাঠের পর মাঠ সরষে ফুলে ফুলে ভরে গেছে। মাঠের দিকে তাকালে দেখা যায়, সরষে ফুলের রঙে হলুদ আর হলুদ হয়ে গেছে সারা এলাকা। সরষের মাঠে বসানো হয়েছে সারিবদ্ধভাবে হাজার হাজার মৌমাছির বক্স। লাখ লাখ মৌমাছি হলুদ রঙের সরষে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বক্সে জমা করছে। আট-দশ দিন পর পর ওইসব মৌমাছির বক্স থেকে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা। প্রতিটি মৌমাছির বক্সে প্রায় এক লাখ করে আর একটি করে রানী মাছি থাকে। রানী মাছি ডিম দেয়। সারা দিন মধু সংগ্রহকারী মাছিগুলো সরষে ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে। প্রতিটি মৌমাছির বক্স থেকে আট-দশ দিন পরপর ২০-২১ লিটার মধু সংগ্রহ করছেন চাষিরা। সোনারগাঁও থেকে ২০০টি বক্স নিয়ে শিবালয় উপজেলার বোয়ালী আসা মেসার্স ‘ঈশা খা মৌ খামার’-এর মালিক সবুজ শেখ জানান, ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু করে মে মাস পর্যন্ত সরষে ফুলের মধু সংগ্রহ করেন তারা। বছরের ৬ মাস তারা মধু সংগ্রহ করেন আর বাকি ৬ মাস রিনি সিজেনে মৌমাছি পালন করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিয়া তরফদার জানান, এ উপজেলায় এ বছর ৯ হাজার ৫৩৯ হেক্টর জমিতে সরষের আবাদ করা হয়েছে। তবে মধু চাষিরা এবার প্রায় দেড় টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মধু সংগ্রহের জন্য মৌচাষিদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। যদি সরকারিভাবে মধুর মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় তাহলে মৌচাষিদের আগ্রহ আরও বাড়বে। এ মধু দেশের বাহিরেও যাচ্ছে। দেশে অনেক বেকার যুবক রয়েছেন। কিন্তু তারা সরকারিভাবে ট্রেনিং নিয়ে মৌচাষ করলে বেকারত্ব অনেক কমে যাবে এবং বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন।