সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১২ পিএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১৪ পিএম
ফেনীর সোনাগাজীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে ময়মসিংহের তরুণী। এ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে লোকলজ্জায় পড়ে প্রেমিক জামাল উদ্দিন ও প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার তমা দুপুরে ফেনী আদালতে গিয়ে এফিডেভিট করে বিয়ে করেছেন। তাদের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য দিতে না পারলেও এলাকার অনেকে বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।গত শনিবার রাতে ওই তরুণী সোনাগাজীতে এসে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়। প্রেমিকের নাম জামাল উদ্দিন। সে উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের আলাম সওদাগরের পুরাতন বাড়ির আবুল কালামের ছেলে। তরুণীর তাসলিমা আক্তার তমা সে ময়মনসিংহের সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার দাবি সে স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে
তরুণীকে বলতে শোনা গেছে, ফেসবুকে প্রেমিক জামাল উদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে
প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে বেড়ানোর কথা বলে গত মাসে তাকে কক্সবাজারে নিয়ে যায়। সেখানে
স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে তারা হোটেলে অবস্থানের সময় বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার শারীরিক
সম্পর্ক স্থাপন করেন। কক্সবাজারে থেকে ফেরার কিছুদিন পর সে তার সঙ্গে যোগাযোগ
বন্ধ করে দেয়। গত কয়েকদিন আগে সে ওমরা করতে সৌদি আরব চলে গেছেন বলে ম্যাসেজ দিয়ে আল্লার
কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে ভুলে যেতে বলে।
ওই তরুণী বলেন,
ম্যাসেজ দেওয়ার পর থেকে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পরিনি। তারপর
জানতে পারি সে দেশে রয়েছে। আমাকে বিয়ে করা ছাড়া আমি বাড়ি থেকে যাব না। এ সময় সে প্রেমের
স্বপক্ষে বিভিন্ন অন্তরঙ্গ ছবি ও তার সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারে আদান-প্রদান হওয়া স্কিনশর্ট
দেখিয়ে বিয়ের দাবিতে অনড় থাকে।
ঘটনার
বিষয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা তানিম ও সদস্য
শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাতে ওই তরুণী এলাকায় আসার পর অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনে বাবার দোকানে
যায়। তিনি বিষয়টি সমাধান করতে টালবাহানা শুরু করলে আমরা খবর পেয়ে এলাককাবাসীকে সঙ্গে
নিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলি। পরে আমরা তাকে অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পারিবারিকভাবে
সমাধানের আহ্বান জানাই। আমাদের যাওয়ার খবরে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন বাড়ি থেকে সরে অজ্ঞাত
স্থানে চলে যায়। পরে আমরা পুলিশকে জানিয়ে তরুণীকে
বাড়িতে রেখে চলে আসি। তারা আরও বলেন, অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন শিবিরের রাজনীতে জড়িত,
তার পিতাও স্থানীয় জামায়াত নেতা।
ঘটনার বিষয়ে
জানতে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনের মুঠোফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার পিতা আবুল
কালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য জানা যায়নি।
অভিযুক্ত শিবিরের
রাজনীতিতে সক্রিয় কিনা জানতে চাইলে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম
বলেন, এলাকায় তিনি শিবির করে কিনা নিশ্চিত না। তবে যদি সক্রিয় থাকেনও সেটা ফেনীতে হতে
পারে।